১৫ এপ্রিল, ১৯৫৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান তিনি। বেশ উচ্চ ভঙ্গীমা সহকারে প্রাচুর্য্যতায় পরিপূর্ণ অফ স্পিনার ও কার্যকর মারকুটে ব্যাটসম্যানের খ্যাতি পেয়েছেন। ডগ ব্রেসওয়েল নামীয় ভ্রাতুষ্পুত্র ফাস্ট বোলার হিসেবে নিউজিল্যান্ড দলে খেলেছেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওতাগো এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অকল্যান্ড দলে খেলার মাধ্যমে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। দারুণ অফ স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। বিস্তৃত বাহু নিয়ে বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শনে অগ্রসর হন। এরফলে, অতিরিক্ত বাউন্স আনয়ণে সক্ষমতা দেখান ও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।
১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪১ টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্টে তিনবার ছয়-উইকেট লাভ করেছিলেন। এর সবগুলোই দলের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখে। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আইডিএস স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, গ্রায়েম উডের একমাত্র উইকেট পান। ১/৫১ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম উডের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে অকল্যান্ডে সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকটি সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ভারতের প্রথম ইনিংসে তিরুমালাই শ্রীনিবাসনের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা বোলিং ছিল ১/২২। এরপর, ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। এ পর্যায়ে শিবলাল যাদবের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা বোলিং ছিল ৪/৬১। খেলায় তিনি ৪/৬১ ও ৫/৭৫ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জন রাইটের প্রাণান্তঃকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৩ সালে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪/১০৮ ও ২/৮৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১* ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নিক কুকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে ০/৫৪ ও ১/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টেস্ট খেলেন। জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৪ মে, ১৯৮৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। বল হাতে নিয়ে ১/৫৪ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ২৫* ও ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ম্যালকম মার্শালের দাপটে খেলায় তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়। পাশাপাশি, এ সফরে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমের অকল্যান্ড টেস্টে ৬/৩২ নিয়ে কিউইদের অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করতে সবিশেষ অবদান রাখেন। দলের প্রথম সদস্যরূপে এক শীতে অস্ট্রেলিয়াকে দুই সিরিজে কুপোকাত করেন। এছাড়াও, প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় স্পিনার হিসেবে খেলায় দশ উইকেট লাভ করেন। একই শীতকালের শুরুতে ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে ৮৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরফলে, ব্যাটিং অবস্থান অনুযায়ী সর্বকালের সেরাদের তালিকায় সপ্তম স্থানে চলে আসেন। এ পর্যায়ে শেষ উইকেট জুটিতে স্টিফেন বুকের সাথে ১২৪ রানের জুটি গড়েন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে এ সাফল্য পান। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/৩৫ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বিএ রিডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে আরজে ব্রাইটের চতুর্থ উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪/৭৪ ও ৬/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত প্রথম ও দলের দশম ওভারে পাঁচ-বলে ওভার শেষ করেছিলেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৮০ ও ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯০ সালে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এজে ল্যাম্বের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে ২/১৩০ ও ৪/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৮০-এর দশকে উইকেট প্রতি তিনি ৮২ বল খরচ করেছেন। বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ সফল ছিলেন। স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেট ও ১০০০ রান সংগ্রহের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। গ্লুচেস্টারশায়ারের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন সহস্রাব্দে এসে তাঁর চিন্তাধারায় দলটি কয়েকটি একদিনের ট্রফির শিরোপা লাভ করে। নিউজিল্যান্ডে ফিরে এসে সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে জাতীয় দলের প্রধান কোচরূপে মনোনীত হন। ব্ল্যাক ক্যাপসদের সাথে সফলতম সময় অতিবাহিত করেন। প্রথমবারের মতো চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফির শিরোপার সন্ধান পায়। ২০০৩ ও ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলকে পরিচালনা করেন। তন্মধ্যে, ২০০৭ সালে দলটি সেমি-ফাইনালে পৌঁছুলে তাঁর চুক্তির মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু, নভেম্বর, ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান ও কিউই দলটি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে চলে যায়। আবারও তিনি গ্লুচেস্টারশায়ারে ফিরে আসেন ও আরও একবার কোচের দায়িত্ব নেন। আয়ারল্যান্ড দলের কোচের দায়িত্ব থেকে ফিল সিমন্স অব্যহতি নিলে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ও মে, ২০১৫ সাল থেকে কাজ শুরু করেন। অতঃপর, ১৮ জুলাই, ২০১৭ তারিখে পারস্পরিক সমঝোতারভিত্তিতে আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সড়ে আসেন।
