|

ক্লড নিউবেরি

১৮৮৯ সালে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯১০-১১ মৌসুম থেকে ১৯১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের পূর্বে জাতীয় দলের পক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। টেস্ট অধিনায়ক পার্সি শারওয়েলের উইকেটসহ ঐ ইনিংসে ৩/১০৩ লাভ করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত সফলতার সন্ধান পেতে থাকেন। ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ৬/২৮ পান ও কারি কাপে ট্রান্সভালের দ্বিতীয় স্থান লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯১২ সালের ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পাননি।

১৯১৩ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ও পর্যাপ্ত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক দল ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হলে দ্বিতীয় টেস্টের জন্যে চার খেলোয়াড়ের পরিবর্তন ঘটে। তিনি হ্যারল্ড বামগার্টনারের স্থলাভিষিক্ত হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জ্যাক হবসকে বিদেয় করে প্রথম উইকেট পান। ঐ ইনিংসে ৩/৯৩ পান। তবে, সিড বার্নসের খেলায় ১৭ উইকেট নিয়ে সকলকে ছাঁপিয়ে যান ও সফরকারীরা আবারও ইনিংস ব্যবধানে জয় পায়। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে স্ট্যাম্পিংয়ে বিদেয় নেন। ইনিংস ও ১২ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ১ জানুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জোহানেসবার্গের ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এফই ওলিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৯৩। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ৪/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৯১ রানে জয় পায়।

একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১৮ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

পরের খেলায় ৭২ রান খরচায় ৪ উইকেট পান। এ সিরিজে ২৪ গড়ে ১১ উইকেট নিয়ে জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গের পর দ্বিতীয় সর্বাধিক উইকেট দখল করেন। খেলাগুলোয় ওলি’র প্রিয় শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। চারবার সমসংখ্যক খেলায় ডিসমিস হন।

মাঝে-মধ্যে দ্রুততার সাথে বোলিং করলেও তাঁর কার্যকরীভাবে মিইয়ে পড়ে। তাঁর জীবন কাহিনী বেশ মর্মান্তিক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তিনি ১১ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সাউথ আফ্রিকান ইনফেন্ট্রিতে যোগ দেন ও পশ্চিম রণাঙ্গনে অংশ নেন। অতঃপর, ১ আগস্ট, ১৯১৬ তারিখে ফ্রান্সের লঙ্গুভালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। দুইজন টেস্ট ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে তাঁর প্রকৃত জন্মতারিখ অজানা রয়ে গেছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট