|

নোয়েল ম্যাকগ্রিগর

১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩১ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রচলিত সকল ধরনের স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। বিনোদনধর্মী ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে ডুনেডিনের কারিসব্রুকে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লেস ওয়াট ও ইয়ান কাউহুনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের সর্বনিম্ন ২৬ রান সংগ্রহের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। ২ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে পাকিস্তান ও ভারত সফরে প্রথম সিরিজে অংশ নেন। লাহোর টেস্টে ১১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাকাল ক্রিজে অবস্থান করে এ ইনিংস খেলেন। তবে, ঐ টেস্টে তাঁর দল পরাজিত হয়েছিল। এটিই তাঁর একমাত্র শতক ছিল। এ সফরে ২৫ গড়ে ৩০০ রান তুলেন। প্রায় দশ বছর পর নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই অধিক সফল ছিলেন। ২৮ গড়ে ১৬৮ রান তুলেছিলেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে ৭৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এ সফরে চমৎকার খেলে ৭০৯ রান তুলেন। তন্মধ্যে, টেস্ট থেকে ২৪ গড়ে ২৪২ রান পেয়েছিলেন। নিজ দেশে প্রথম জয়ের পাঁচ মৌসুম পর বিদেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ৬৮ ও ২০ রান তুলে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। তবে, পঞ্চম টেস্টে ব্ল্যাক ক্যাপসরা জয় পেলেও তেমন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ঐ সিরিজটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। জন রিড ও জ্যাক অ্যালাবাস্টারের সাথে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রথম তিন টেস্ট বিজয়ী দলের তিন জন খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে চতুর্থ উইকেটে ব্যারি সিনক্লেয়ারের সাথে ১৭১ রানের জুটি গড়ে দ্বি-পক্ষীয় নতুন রেকর্ড গড়েন। খেলায় তিনি ৬২ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার কবলের পূর্বে এটিই নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সর্বশেষ খেলা ছিল।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে শেষ দুই টেস্ট খেলেন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৬৮ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ৫৮ বছর বয়স অবদি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় সম্পৃক্ত ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক বোল প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। ২১ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে ৭৫ বছর ৩৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট