১ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে পাইত রেটিফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্নস ও টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউথ আফ্রিকা একাডেমি, নেলসন ম্যান্ডেলা বে জায়ান্টস ও প্রিটোরিয়া হাই স্কুল ওল্ড বয়েজের পক্ষে খেলেছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত নর্দার্নস বনাম ফ্রি স্টেটের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৫-১৬ মৌসুমে সহস্রাধিক রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষস্থানে আরোহণ করেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে যুক্তরাজ্য সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এ সফরে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ২০০ ও ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে ১০৫ রানের মনোরম শতক হাঁকানোর কল্যাণে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে ঠাঁই পান। দলটির পক্ষে ৪৯টি খেলায় অংশ নেন। জুলাই, ২০২১ সালে কেন্টের সহকারী অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে একদিনের ক্রিকেটের পাঁচ ইনিংস থেকে চতুর্থ শতরানের সন্ধান পান।

২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ২০০৯ সাল থেকে সাতটি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৫ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।

২০১৭ সালে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। তবে, অভিষেক পর্বটি বেশ সাদামাটা ছিল। সব মিলিয়ে ঐ টেস্টে মাত্র ১০ রান তুলতে পেরেছিলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১১ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৪ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৭ রানে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৮ সালে কোলপ্যাক খেলোয়াড় হিসেবে কেন্টের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রথম খেলায় গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৪ রান তুলেন। তবে, খুব দ্রুত নিজেকে মেলে ধরতে সোচ্চার হন। ৫৪, ৩৬*, ০, ৬৯*, ৬০ ও ৪৭ রানের সন্ধান পান। ২০১৮ সালের রয়্যাল লন্ডন ওয়ান ডে কাপে কেন্টের শার্ট পরিহিত অবস্থায় স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৬, ৯০, ২২, ২৫*, ৩৬*, ১১৭, ১১৩, ৪, ১২৪*, ১২৭ ও ৩২ রান তুলে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। সব মিলিয়ে ৮৭ গড়ে ৬৯৬ রান তুলেছিলেন। এ বছর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের দ্বিতীয় বিভাগ থেকে উত্তরণে নিয়মিতভাবে খেলেন। ৩৩.৯১ গড়ে রান তুলেন ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৬ রান সংগ্রহ করেন। প্রথম তিন মাসেই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করায় জুন, ২০১৮ সালে দল থেকে ক্যাপ লাভ করেন। দলের ২১৬ নম্বর ক্যাপধারী হন।

২০১৯ সালেও তাঁর খেলার এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে স্যাম বিলিংস ও জো ডেনলি ব্যস্ত থাকায় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে কেন্টের তিনজন বিদেশী খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন। অতঃপর, ১ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে চার মৌসুম খেলার পর কেন্ট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। দলটির পক্ষে ৭৩ ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ক্লাবের বর্ষসেরা ফিল্ডার হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট