|

পঙ্কজ সিং

৬ মে, ১৯৮৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘদেহী ও মজবুত গড়নের অধিকারী। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেন। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিজস্ব সেরা সিরিজ খেলেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া গমন করেন। ২০০৪ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল জোন, পুদুচেরি ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ২৫ নভেম্বর, ২০০৪ তারিখে দিল্লিতে রাজস্থান বনাম সার্ভিসেসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর শুরুটা বেশ উচ্চ মার্গীয় ছিল। ২০.৯৫ গড়ে ২১ উইকেট দখল করে স্বীয় প্রতিভার কথা জানান দেন। এ পর্যায়ে ২০০৬ সালের রঞ্জী প্লেট লীগে রাজস্থান দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। রঞ্জী ট্রফিতে অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। উইকেট লাভের জন্যে মনেপ্রাণে চেষ্টা চালাতেন। ২০১০ ও ২০১১ সালে রাজস্থান দলের শিরোপা বিজয়ে বড় ধরনের ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

২০১০ থেকে ২০১৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ক্রমাগত ধারাবাহিকতা রক্ষার কারণে ২০১০ সালে ভারত দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বিশ্রামজনিত কারণে ওডিআইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার জন্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, জহির খান, আশীষ নেহরা, এস শ্রীশান্তমুনাফ প্যাটেলের কারণে খেলা হয়নি। অবশেষে, ৫ জুন, ২০১০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ৭ ওভার বোলিং করে ০/৪৫ পান। ঐ খেলায় শ্রীলঙ্কা দল ছয় উইকেটে জয় পায়। এটিই তাঁর একমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ ছিল।

২০১৪ সালের গ্রীষ্মে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে দীর্ঘকায় ও আঘাতপ্রাপ্ত ইশান্ত শর্মা’র স্থলাভিষিক্ত হন। ২৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক এমএস ধোনি’র কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ লাভ করেন। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ বছর বয়সে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টের পূর্বে ভারত দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় শুরুতে প্রচণ্ড স্নায়ুর চাপে ভোগেন। সিমের সাথে বলকে দেরীতে ঘুরানোর পাশাপাশি বলকে উভয় দিক দিয়েই ফেলতে পারতেন। ইংরেজ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। তবে, কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভারে ১৪৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ ওভারে ৩৩ রান খরচ করেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ২৬৬ রানে জয়লাভ করে।

উজ্জ্বীবনী শক্তি নিয়ে অগ্রসর হলেও ঐ টেস্টে উইকেট শূন্য অবস্থায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। ৭ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টেও তাঁকে দলে রাখা হয়। স্মরণীয় মুহূর্ত উদযাপনের জন্যে তাঁকে পরবর্তী টেস্টের অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। ২৬বার বোলিং পরিবর্তনের পর ৬৯ ওভারের মাথায় নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। ইংরেজ, ভারতীয় কিংবা যে-কোন দেশের অধিবাসী দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। এরপর তিনি আরও একটি উইকেট নিজ নামের পার্শ্বে যুক্ত করতে সক্ষম হন। একমাত্র ইনিংসে তিনি ২/১১৩ লাভ করেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৫৪ রানের ব্যবধানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দুই টেস্ট শেষে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৭৫-১৭-২৯২-২। উভয় টেস্টেই ভারত দল পরাজিত হয়। ইশান্ত শর্মা সুস্থ হয়ে উঠেন ও পঙ্কজ সিং দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট