১৭ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কোলাক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘ফিঞ্চি’ ডাকনামে ভূষিত অ্যারন ফিঞ্চ ১.৭৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী। গ্যারি ফিঞ্চ ও সু ফিঞ্চ দম্পতির সন্তান। শক্ত-মজবুত গড়ন ও আগ্রাসী ধাঁচ অবলম্বনে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। ২০০৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছিলেন। ২০০৭ সালে কক্ষ অপরিচ্ছন্ন রাখায় ন্যাশনাল একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া; নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, গুজরাত লায়ন্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, পুনে ওয়ারিয়র্স, রাজস্থান রয়্যাল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব, মেলবোর্ন রেনগাডেস ও রুহুনা’র পক্ষে খেলেছেন। ২০ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ভারতীয় একাদশ বনাম ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেবার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০১১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ১২ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। দুই বছর পর ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ২০১৩ সালে টি২০আইয়ে মাত্র ৬৩ বল মোকাবেলায় ১৫৬ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। এটিই টি২০আইয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মর্যাদা পায়।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলায় শতক হাঁকান। তবে, পরবর্তী খেলাগুলোয় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। অবশেষে সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। স্টিভ স্মিথের সাথে দারুণ জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল শিরোপা জয় করেছিল। এক পর্যায়ে ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায় অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে আঘাতের কারণে তাঁর স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলীতে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলশ্রুতিতে, ২০১৬ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতার কয়েক সপ্তাহ পূর্বে তাঁকে অধিনায়কত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরপর থেকে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন।

২০১৮ সালে আবারও তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লে তাঁকে আবারও সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়। তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে তাঁর টেস্ট অভিষেকের দ্বার উন্মুক্ত হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে টিম পেইনের নেতৃত্বে অজি দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৭ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে দুবাইয়ে অপর সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মারনাস লাবুশেনট্রাভিস হেডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬২ ও ৪৯ রান তুলে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। তবে, উসমান খাজা’র অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু, এ স্তরের ক্রিকেটে সুবিধে করতে পারেননি।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জশপ্রীত বুমরা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৩৭ রানে জয় তুলে নেয় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ভারত ও পাকিস্তান সফরে দারুণ খেলেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের নিলামে ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে ₹৪.৪ কোটি ভারতীয় রূপীতে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

৮ জুন, ২০২২ তারিখে ঘোষিত আইসিসি’র টি২০আই র‍্যাঙ্কিং প্রথায় শীর্ষ পাঁচে প্রবেশ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট