| |

সঞ্জয় বাঙ্গার

১১ অক্টোবর, ১৯৭২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ২০০০-এর দশকের প্রথমার্ধ্বে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জন্মসনদে তাঁর জন্ম বিডে হলেও প্রকৃতপক্ষে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী গ্রামে তাঁর জন্ম হয়েছিলেন। আওরঙ্গবাদে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করেন। এরপর, ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে মুম্বইয়ে চলে যান। ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। ইএসপিএনক্রিকইনফোয় এক স্বাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, প্রতিবেশীর বাড়ীতে টেলিভিশনে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত খেলা প্রথম দেখেন। কপিল দেবসুনীল গাভাস্কারের ন্যায় খেলোয়াড়দের সাফল্যে উজ্জ্বীবিত হন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্স ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২১ বছর বয়সে রেলওয়ের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ব্যাটিং ও বোলিং – উভয় বিভাগেই দলের গোড়াপত্তনে এগিয়ে আসতেন। পরবর্তীতে, দলের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা লাভের পর জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান।

ঘরোয়া পর্যায়ে তারকা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় বিজয় হাজারে’র পর মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ছয় হাজার রান ও দুইশত উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভ করেন। নতুন সহস্রাব্দে রেলওয়ে দলের উত্থানে তাৎপর্য্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দুইবার রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়সহ দুইবার ইরানী ট্রফির শিরোপা জয়ে সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন।

২০০১ থেকে ২০০৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। টিনু যোহাননইকবাল সিদ্দিকী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অনিল কুম্বলে’র দূর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে সাত নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত শতরানের ইনিংস খেলেন। ব্যাট হাতে আরও একটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। ২০০২ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৬৮ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে দুইটি উইকেট পান। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। দুই টেস্ট পর ওভালে স্বল্পসংখ্যক ভারতীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে একই টেস্টে ব্যাটিং ও বোলিং – উভয় বিভাগে উদ্বোধন করেন।

২০০২-০৩ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড সফরে দলের প্রায় সকলের সাথে তিনিও দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজের উভয়টিতেই তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর মধ্যে এ দুই পরাজয় নিয়েই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানতে হয়। ১৯ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১ ও ৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ড্যারিল টাফি’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পায়। এরপর তাঁকে আর টেস্ট দলে রাখা হয়নি।

২৫ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। একই বছরের ১৫ নভেম্বর দর্শনীয় খেলেন। আহমেদাবাদে সিরিজের চতুর্থ ওডিআইয়ে পর্বতসম রান সংগ্রহের দিকে ধাবিত হয় ভারত দল। সাত নম্বরে নেমে প্রচণ্ড চাপের মুখে থেকে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে নাটকীয়ভাবে দলকে জয় এনে দেন। তবে, এরপর থেকে দ্রুত তাঁর খেলায় ছন্দপতন ঘটতে থাকে। মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পান।

২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, কোন খেলায় তাঁকে রাখা হয়নি। ঐ প্রতিযোগিতা শেষে স্বল্প কয়েকটি ওডিআইয়ে খেলার সুযোগ পান। ২০০৪ সালে শেষবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নিতে তাঁকে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলে ঘরোয়া আসরে ফিরে যান। রেলওয়ে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন। পাশাপাশি দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৪-০৫ মৌসুমের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে ডেকান চার্জার্সের পক্ষে খেলেন। এরপর, ২০০৯ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তবে, কিছুটা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারলে হয়তোবা তিনি অন্যতম অল-রাউন্ডারের মর্যাদা লাভ করতে পারতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে ইনিংস উদ্বোধন করা থেকে শুরু করে সাত নম্বর অবস্থানেও মাঠে নামতে হয়েছে। কার্যকর বোলিং করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখাতেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সফলতম কোচের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ভারত ‘এ’ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এরপর, ২০১০ সালে আইপিএলে অংশগ্রহণকারী কোচি তুস্কার্স কেরালার ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের কোচ হন। দলটি আইপিএলের সপ্তম আসরের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়। তাঁর সম্পর্কে পাঞ্জাব দলের নিয়মিত সদস্য বীরেন্দ্র শেহবাগ মন্তব্য করেন যে, ‘গ্যারি কার্স্টেনের চেয়েও তিনি শান্ত।’ ২০১৪ সালে ভারতের ওডিআই দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে থেকে দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড সফর করেন। পরবর্তীতে, ভারত দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান।

সম্পৃক্ত পোস্ট