১৪ মে, ১৯১৮ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। মূলতঃ লেগ স্পিনার হিসেবে খেলতেন। জরুরীভিত্তিতে তাঁর শূন্যতা পূরণে দলে যুক্ত করা হয় ও খুব শীঘ্রই প্রথম পছন্দে পরিণত হন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৬৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-এর দশকে উপর্যুপরী সাতবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী সারে দলের সদস্য থেকে অপূর্ব দক্ষতায় উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যায়ে ১৯৫২ সালে চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম শিরোপা জয়ের পূর্বে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে সাত মৌসুম খেলেছিলেন। জয়সূচক রান সংগ্রহকালে অ্যালেক বেডসারের মারাত্মক সিম বোলিং মোকাবেলা করতে হয়েছিল। অনেকগুলো স্মরণীয় ডিসমিসালে নিজেকে জড়ান।
বিশ্বযুদ্ধে উত্তর আফ্রিকায় আহত হন। পরবর্তী সাত বছর দৃশ্যতঃ সততঃ দলে তাঁর উপস্থিতি ছিল। চ্যাম্পিয়নশীপের প্রত্যেক শিরোপাতেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৫০ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৯৫০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ম্যালকম হিল্টন ও ডেভিড শেফার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৬ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ২২৪ রানে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৫০-এর দশকে সমসাময়িক গডফ্রে ইভান্সের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে পারেননি। এরফলে, সারে দল বেশ লাভবান হয়। সব মিলিয়ে ৭৫২টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও কাউন্টি পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন অপূর্ব মহিমায়। সারের ইতিহাসের স্বর্ণালী সময়ে নিজেকে তুলে ধরেন। অ্যালেক বেডসারের সাথে তাঁর চমৎকার বোঝাপড়া লক্ষ্য করা যায়। ১৯৬৩ মৌসুম শেষে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সারের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। আরও ২০ বছর দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ও কয়েক প্রজন্মের ব্রাউন ক্যাপ লাভে ভূমিকা রাখেন।
১৯৫৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ৯১ বছর ২২৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ইংল্যান্ডের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননা পেয়েছিলেন। এরফলে, অ্যালেক বেডসার ইংল্যান্ডের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করছেন।
