২৯ জানুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে বার্বাডোসের রিচমন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের প্রথম অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্ট মর্যাদার পূর্বে ১৯২৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে দলের সদস্য ছিলেন। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট সফরে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ পর্যায়ে তিনি দলের নেতৃত্বে ছিলেন। এ সফরে ধীরগতির দৌড়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, ৩৬.৪২ গড়ে ৭৬৫ রান তুলে গড়ের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিলেন। সবগুলো খেলা থেকে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।

ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঠাঁই করে নেন। ১৩ ও ৪ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, ওভালের চতুর্থ টেস্টে খেলেননি। সফরের শেষদিকে নটিংহামের লাফবোরা রোড মাঠে ১২ সদস্যের জে. কান দলের বিপক্ষে ১৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর, স্কারবোরায় শক্তিধর লেভসন-গাওয়ার একাদশের বিপক্ষে ১২৪ রান তুলেন। প্রথম উইকেট পতনের পর ব্যাটিংশৈলীর অপূর্ব দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে সবশেষে বিদেয় নেন। সম্ভবতঃ হেগের ক্যাচ মুঠোয় পুড়তে ব্যর্থ হবার খেসারত গুণতে হয় দলকে। লেভসন-গাওয়ার একাদশ ফলো-অন থেকে উৎড়ে যায় ও খেলায় জয় পায়।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে এফ. এস. জি. ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন দল ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে আসলে বার্বাডোসের সদস্যরূপে ১৪৭ রান তুলেন। এ পর্যায়ে টারিল্টনের সাথে ২৬১ রানের জুটি গড়েন। এরপর, ব্রিজটাউনে ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ২৪ ও ০ রান তুলেন। তবে, অপরাপর টেস্টগুলোয় তিনি অংশ নেননি। এ সময়ে স্বাগতিক দ্বীপ রাষ্ট্র অধিনায়কত্ব করার ক্ষমতা লাভ করতো।

তাসত্ত্বেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আরও দুই টেস্ট খেলেছিলেন। ১৯৩৩ সালে লর্ডসে ৬ ও ৩৬ এবং ওল্ড ট্রাফোর্ডে ১ ও ১৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এ সফরে ২৭.৭৬ গড়ে ১০৮৩ রান তুলেছিলেন। হোভে সাসেক্সের বিপক্ষে ১৪৯ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন। দশম উইকেটে এইচ. সি. গ্রিফিথের সাথে ১৩৮ রানের জুটি দাঁড় করান। পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রেকর্ডরূপে চিত্রিত হয়ে পড়ে।

১৯৩৩ সালে জ্যাকি গ্র্যান্টের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুলাই, ১৯৩৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে আট শতক সহযোগে ৩৪.৪৮ গড়ে ৩৫০২ রান তুলেন। এছাড়াও, লেগ-স্পিন বোলিং করে ৩৬.২৮ গড়ে ৫৩ উইকেট দখল করেন।

৫ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে ৯০ বছর ৩৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট