৪ জুলাই, ১৯১৮ তারিখে বার্কশায়ারের রিডিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সর্বকালের অন্যতম সেরা সিম বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মনুমেন্ট হিল সেন্ট্রালে অধ্যয়ন করেছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৫১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে নিজ দেশে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ইকিন ও ফ্রাঙ্ক স্মেইলসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত বোলিং করে অভিষেক টেস্টে স্মরণীয় করে রাখেন। ১১ উইকেট দখল করে লর্ডসের টেস্ট অভিষেকে দশ বা ততোধিক উইকেটপ্রাপ্তির প্রথম ঘটনা হিসেবে চিত্রিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, ১৯৭২ সালে বব ম্যাসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ উইকেট ও ২০২৪ সালে গাস অ্যাটকিনসন ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিপক্ষে লর্ডসে টেস্ট অভিষেকে দশ বা ততোধিক উইকেট লাভ করেছিলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৭/৪৯ ও ৪/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৩৯ ও ২/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১১ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৮১ ও ১/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১০৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫১ সালে নিজ দেশে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/১২২ ও ৬/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় সফরকারীরা ৭১ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৫৩ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বল হাতে নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছেলিন। খেলায় ৭/৫৫ ও ৭/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
লর্ডসে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। এরফলে, লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরিবেশের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে না পারলে তিনি কখনো প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন না। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক লিন্ডসে হ্যাসেট ও নিকটতম বন্ধু আর্থার মরিস তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৫/১০৫ লাভের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। খেলাটি নাটকীয়ভাবে ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
১৯৫৫ সালে নিজ দেশে জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৭ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৯২ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয়লাভ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বেশ কয়েকটি সফরে ব্যবস্থাপক ও সহঃব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬১ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে প্রায় সিকি শতাব্দীকাল দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন। এ দায়িত্ব পালনকালে জিওফ বয়কট, টনি গ্রেগ ও ইয়ান বোথামের সাথে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। তাসত্ত্বেও, ১৮ সিরিজের দশটিতে ইংল্যান্ড দল জয় পেয়েছিল। তাঁর কিছু অদ্ভূত সিদ্ধান্তও স্মরণীয় সফলতা পায়। ১৯৭৫ সালে চশমাধারী ও বাদামী চুলের অধিকারী ডেভিড স্টিলকে দলে যুক্ত করেছিলেন।
তবে, ২৪ বছরের দায়িত্বে থাকাকালে কিছু কালো অধ্যায়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে বাসিল ডি’অলিভেইরাকে দল থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের কবলে পড়েন। এছাড়াও, টম গ্রেভনি’র উদীয়মান খেলোয়াড়ী জীবন সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখেন।
১৯৬৪ সালে ওবিই ও পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে সিবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ১৯৯৭ সালে ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় বাকিংহাম প্যালেসে তাঁকে নাইট পদবীতে ভূষিত করা হয়। এরফলে, ইংল্যান্ডের প্রথম বোলার হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন। উইজডেন বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে মনোনীত হবার ৬০তম বার্ষিকীতে তাঁকে স্মারকসূচক অ্যালমেনাক প্রদান করা হয়। ৪ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে লন্ডনে ৯১ বছর ২৭৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুর পর মিকি স্টুয়ার্ট মন্তব্য করেন যে, তিনি প্রচলিত ধাঁচের ইংরেজ পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। এক বছর পূর্বে অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার খেলা টেলিভিশনে দেখাকালীন একদল দর্শনার্থীকে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তিনি কিভাবে রিকি পন্টিংকে বিদেয় করতেন।
