২৫ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে টারানাকির হয়েরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে প্রায় এক দশক প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শীর্ষসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, তাঁর খেলার ধরন তেমন দৃষ্টিনন্দন ছিল না। শুরুরদিকে বড় অঙ্কের রান সংগ্রহে তৎপর ছিলেন। কয়েক বছর অবশ্য দলে ঠাঁই লাভে হিমশিম খান। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিনি স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করেন। ছয় শতাধিক রান তুলেছিলেন।

২০০৮-০৯ মৌসুমে ৬৩.৮০ গড়ে রান তুলে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। পরের মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডে ৭৫.৭১ গড়ে ৫৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একটি খেলায় ৪৪৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেমি হাউয়ের সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে ৪২৮ রান তুলেছিলেন। ঐ খেলায় তিনি ২৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। এরফলে, ৩১ বছর বয়সে বাংলাদেশের বিপক্ষে সীমিত-ওভারের ক্রিকেট খেলতে তাঁকে জাতীয় দলে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড দলের দুইটিমাত্র টেস্ট, আটটিমাত্র ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নেয়ার বারো বছর পর ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। এ সফরেই টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে তাঁর। ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে একই মাঠে ও একই দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আশানুরূপ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। ৪২ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মার্টিন গাপটিলের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১২১ রানে পরাজিত হয়েছিল।

২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের ব্যাটিং বদান্যতায় স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৯ মার্চ, ২০১২ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০১৪ তারিখে স্বীয় ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়লে পিঠ ও হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান।

রাগবি খেলায় দক্ষ ছিলেন। তবে, যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় চোয়ালে আঘাত পেলে এ ক্রীড়া ছেড়ে দেন। ক্রিকেট খেলার বাইরে টারানাকির হয়েরায় প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট