|

উমেশ যাদব

২৫ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। বেশ দেরীতে ক্রিকেটে হাতেখড়ি ঘটে। বলিউডের চলচ্চিত্রের ন্যায় উমেশ যাদবের উত্থান ঘটে। তিলক যাদব ও কিশোরী দেবী দম্পতির সন্তান। পিতা কয়লা খনি শ্রমিক ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারকে সহায়তাকল্পে পুলিশ হতে চেয়েছিলেন। এরপর, ১৯ বছর বয়সে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল জোন ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৮ সালে তারকাবিহীন বিদর্ভ দলের সদস্যরূপে যাত্রা শুরু করেন। ৩ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত বিদর্ভ বনাম মধ্যপ্রদেশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

খুব শীঘ্রই ভারতের ঘরোয়া আসরে তারকা খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে আবির্ভূত হন। শক্ত মজবুত গড়নে সহজাত গতি নিয়ে ফাস্ট বোলিংয়ে অগ্রসর হন ও হারানো সময় পুষিয়ে দিতে সচেষ্ট হন। তরতর করে উপরের দিকে যেতে থাকেন। রঞ্জী ট্রফিতে বিদর্ভের পক্ষে অভিষেক ঘটে। খেলায় চার উইকেট পান। ঐ মৌসুমে ১৪.৬০ গড়ে ২০ উইকেট দখল করেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দুই বছর অতিবাহিত করার পরপরই ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগের বোলারের দিকে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।

২০১০ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১০ সালে ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ওডিআই দলে খেলার জন্যে ভারত দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২৮ মে, ২০১০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তিন ইনিংস থেকে একটিমাত্র উইকেট পেলেও পেস বোলিংয়ে সকলকে বিমোহিত করেন। ২০১০ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে দিল্লি দলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।

অল্প কিছুদিন পরই টেস্ট দলে যুক্ত হন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৬ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৫২ ও ২/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দারুণ বোলিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ৫ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর থেকে দলের নিয়মিত সদস্যরূপে খেলতে থাকেন। একই বছরে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারত দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরের সুযোগ পান। টেস্ট সিরিজ খোঁয়ালেও তাঁর বোলিংয়ের ধার ঠিকই ছিল। সিরিজে ভারতের পক্ষে সর্বাধিক ১৪ উইকেট পান ও ভারতীয় পেস বোলিংয়ে আলোকচ্ছটা ছড়ান।

২০১২ সালে আঘাতের কবলে পড়লে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর সুস্থতার জন্যে সময় দেয়। এক বছরের অধিক সময় মাঠের বাইরে অবস্থান করেন। দলে ফিরে ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা বিজয়ী ভারত দলের পক্ষে খেলেন। ইংল্যান্ডে দর্শনীয় খেলাকালীন সুইং ও পেসের চমৎকার সমন্বয় ঘটান। কিন্তু উত্থান-পতনের কারণে প্রথম একাদশে স্থায়ী আসন গাড়তে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পেস ও বাউন্সি পিচে দারুণ খেলেন। ভারত দল শিরোপা বিজয়ে সক্ষম না হলেও তিনি ১৮ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলারে পরিণত হন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জেপি ডুমিনি’র দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২/৩২ ও ৩/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০* রান সংগ্রহ করেন। অজিঙ্কা রাহানে’র জোড়া শতকের বদৌলতে স্বাগতিকরা ৩৩৭ রানে জয়লাভ করলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

কয়েক বছর পর রাজধানী নগর কলকাতার পক্ষে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের সপ্তম আসরে অংশ নেন। গৌতম গম্ভীরের অধিনায়কত্বে প্যাট কামিন্স, মর্নে মরকেল ও জ্যাক ক্যালিসের সাথে খেলেন। ২০১৮ সালের আইপিএলের নিলামে ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দলের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেন। ৬/৮৮ ও ৪/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ কৃতিত্বের কারণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪০ ও ২/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২০২ রানে জয়লাভ করলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৩ সালে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ২০২৩ তারিখে লন্ডনে অনুস্ঠিত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অস্ট্রেলিয়া দলের মুখোমুখি হন। ০/৭৭ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ট্রাভিস হেডের অনবদ্য ব্যাটিংনৈপুণ্যে তাঁর দল ২০৯ রানে পরাজয়বরণ করে।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তানিয়া ওধা নাম্নী ফ্যাশন ডিজাইনারের পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট