১১ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে কিংবা তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। ক্রিজে দ্রুতলয়ে ও আক্রমণাত্মক ধাঁচে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড, জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিড ওয়েস্ট রাইনোজ এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার, নর্দাম্পটনশায়ার, সাসেক্স ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট, ১০২টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০১ সালে ওডিআই খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

তবে, ঐ বছরের শেষদিকে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০১-০২ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত প্রথম শতরানের সন্ধান পান। ওয়াকায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ১০৪ ও ৫৪ রান তুলেন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজের সমাপ্তি ঘটে।

তবে, উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে পরবর্তীতে আর এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। টেস্টে ৩৪.১৫ ও ওডিআইয়ে ২৭.১১ গড়ে রান পেয়েছেন। পরবর্তী বছরগুলোয় ২৩ টেস্ট খেললেও ওডিআইয়ে অধিকতর নিয়মিতভাবে খেলতেন।

২০০২ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ জুন, ২০০২ তারিখে গ্রেনেডার সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ৫৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিস গেইলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে ২২৪ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭২ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তৎকালীন সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এরপর থেকে খেঁই হারিয়ে ফেলেন ও দলের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পান।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, ১০৭ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৫৯ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৭ সালের শেষদিকে তিনি হতাশাচ্ছন্ন হবার কথা তুলে ধরেন। কাউন্টি ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। সাসেক্স ও ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, আইসিএলে চণ্ডীগড় লায়ন্সের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে, ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত অকল্যান্ড এইসেসের পক্ষে খেলেছিলেন। দারুণ ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করলেও খেলা গড়াপেটায় অংশগ্রহণের কারণে নিজেকে কলুষিত করেছেন। মে, ২০১৪ সালে সিবি ৪০ খেলায় সাসেক্সের পক্ষে দূর্বল খেলা প্রদর্শনসহ ২০১১ সালের টি২০ খেলায় তাঁর এ কাজের কথা স্বীকার করেন। কয়েক সপ্তাহ পর ইসিবি ও সিএলটি২০ থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।

সম্পৃক্ত পোস্ট