১৫ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ওডিআইয়ে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পান। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) উচ্চতা নিয়ে পেস ও বাউন্স সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। সহজাত প্রকৃতিতে বলকে নিখুঁত নিশানা বরাবর প্রেরণ করতেন। ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়লেও নিয়মিতভাবে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখাতেন।

মার্ভেল প্রাইমারি স্কুল, বাকল্যান্ডস বিচ ইন্টারমিডিয়েট ও ম্যাকলিন্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, লিঙ্কনশায়ার ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০০১ থেকে ২০১৫ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট, ১৭০টি ওডিআই ও ৪২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত এআরওয়াই গোল্ড কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। দ্বিতীয় খেলায় কিছুটা ভূমিকা রাখেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩/৩০ লাভ করেন।

২০০৪ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ জুন, ২০০৪ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ক্রিস কেয়ার্নসের বিদায়ী টেস্টে কোন উইকেটের সন্ধানে ব্যর্থ হন। প্রথম ইনিংসে বল হাতে নিয়ে ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। চার উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। টি২০আইয়ের ইতিহাসে এটিই প্রথম খেলা ছিল। ঐ খেলায় তিন উইকেট পেলেও দল জয়লাভ করতে পারেনি। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অপরাজিত ৯৮* রানের কল্যাণে সফরকারীরা ৪৪ রানে জয় পায়।

২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে মারভান আতাপাত্তু’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১১ এপ্রিল, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫০ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ল্যু ভিনসেন্টের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে শিবনারায়ণ চন্দরপলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। শেন বন্ডের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দুই খেলায় অংশ নিয়ে আট উইকেট দখল করেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এসএম পোলককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/২৯। খেলায় তিনি ৪/৪৩ ও ১/৫৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৮ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৭ সালে ডারবানে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অন্যতম সেরা সাফল্য পান। ব্যক্তিগত সেরা ৫/২৫ লাভ করেন। এরপর, চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০.৩৩ গড়ে নয় উইকেট দখল করেন। ২০০৮ সালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে শেন বন্ড যোগ দিলে তিনি নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ পেস বোলারে পরিণত হন। ২০০৯ সালে আইসিসি ওডিআই বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানে ছিলেন। ওডিআই থেকে ২৪০ উইকেট নিয়ে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

২০০৮ সালে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫৭ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৮ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৬ ও ১/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৮ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আঘাত তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা খেলতে পারেননি। এছাড়াও, ২০১১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার মাঝামাঝি সময়ে আঘাতের কারণে চলে আসতে বাধ্য হন।

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিপক্ষে। ২০০৫ সালে গ্রায়েম স্মিথের সাথে দুর্ব্যবহারের কারণে স্টিফেন ফ্লেমিং তাঁকে দূরে সড়িয়ে আনেন। ২০০৯ ও ২০১১ সালে আইসিসি’র শৃঙ্খলাবিধি ভাঙ্গার কারণে জরিমানার মুখোমুখি হন। সব মিলিয়ে চারটি ওডিআইয়ে নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তন্মধ্যে, তাঁর দল এক খেলায় জয়, দুইটিতে পরাজয় ও একটি খেলায় ফলাফল আসেনি।

আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, পরের মৌসুম থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সদস্য ছিলেন।

১ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ৫ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে ডেভিড হাসি’র সাথে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট