| |

চার্লস পালমার

১৫ মে, ১৯১৯ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের ওল্ড হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোসংযোগ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তেমন মেলে ধরতেন না। তবে, কার্যকর বোলিং করতেন। চশমা পরিহিত ও কিছুটা খামখেয়ালীপূর্ণ স্বভাবের অধিকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। পরবর্তীকালে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে খেলার এক পর্যায়ে অন্যতম স্মরণীয় বোলিং করেন। সম্মুখসারির বোলারদের বিশ্রাম দিতে তিনি ১৪-১২-৭-৮ বোলিং করেছিলেন।

১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২২ ও শূন্য রান করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্লাইড ওয়ালকটের মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮১ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে ১৬ বছর ওরচেস্টারের পক্ষে খেলেন। এরপর, তিন বছর লিচেস্টারশায়ারের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে, আর তাঁকে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলানো হয়নি। সব মিলিয়ে ঐ সিরিজে ভালো খেলেননি। শুধু যে টেস্টেই ব্যর্থ হয়েছিলেন, তা-ই নয়। নিজের চরিত্রের সাথেও সাংঘর্ষিক ঘটাতেন না। লেন হাটনের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে খেলোয়াড়-ব্যবস্থাপকের যৌথ দায়িত্ব পালনকালে প্রায়শঃই বিরূপ সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। তবে, ইংল্যান্ডের মাঠে গৃহীত কাউন্টির প্রধান চালিকাশক্তি ছিলেন।

লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে ২৪ শতক সহযোগে ১২৫৮৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বিপজ্জ্বনক পরিস্থিতিতেও সর্বদাই জয়ের লক্ষ্যে খেলতেন। নাটকীয় খেলাগুলোয় এ ভূমিকা আরও চিত্তাকর্ষক করে তুলতো। পাশাপাশি কার্যকর মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের সাথে মাঝে-মধ্যে অফ-ব্রেক বোলারে পরিণত করতেন। ১৯৫৫ সালে সারের বিপক্ষে ১৪-১২-৮-৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ১২ ওভারে কোন রান খরচ বাদেই ৮ উইকেট পেয়েছিলেন। দলের প্রধান বোলারদের উইকেট লাভে নিস্ফলতায় এ সফলতা পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ের বোলিংয়ের পর সারের সাজঘরে যান ও ক্ষমা চান। তাসত্ত্বেও, ঐ খেলায় সারে দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

১৯৫৭ সালে ব্যবসায় মনোনিবেশ ঘটানোকল্পে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। পরবর্তী দুই মৌসুমে মাঝে-মধ্যে খেলার জগতে অংশ নিতেন। তারপরও, লিচেস্টারশায়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে খেলায় যুক্ত থাকেন। এমসিসি কমিটির সদস্য হন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে এমসিসি প্রেসিডেন্ট হন এবং ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে টিসিসিবি’র চেয়ারম্যান হন।

৩১ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ৮৫ বছর ৩২০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট