| |

অ্যান্ড স্যান্ডহাম

৬ জুলাই, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের স্ট্রিদাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তারকা খেলোয়াড়ের পাশে থেকেই নিজেকে মেলে ধরার প্রয়াস চালান। ১৯১১ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সারে দলের সদস্যরূপে অনেকগুলো বছর সফলতার সাথে ব্যাটিং উদ্বোধন করেছেন।

১৯২১ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২২-২৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ২৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গের শিকারে পরিণত হন। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৪ সালে নিজ দেশে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯২৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। তবে, বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় ব্যাট হাতে নামতে পারেননি। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে টেস্টটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। দশ ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৩২৫ রান তুলেন ও ইংল্যান্ড দলকে ৮৪৯ রানের পর্বতসম সংগ্রহ দাঁড় করাতে ভূমিকা রাখেন। নিজের ৪০তম জন্মদিনের অল্প কিছুদিন পূর্বে এ সাফল্য পান। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই প্রথম ত্রি-শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। অধিনায়ক সম্মানীয় এফএসজি ক্যালথর্পের ব্যাট ধার নেন ও অনেকগুলো রান প্যাটসি হেনড্রেনের কাছ থেকে ধার করা জুতো দৌঁড়ে সংগ্রহ করেন। ঐ ইনিংস খেলাকালীন এক রান নিতে গিয়ে একটি জুতো খুলে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ রান তুলেন। এরফলে, খেলায় সর্বমোট ৩৭৫ রান করে রেকর্ড গড়েন। ৪৪ বছর ও ৫৪৩ টেস্ট পর ওয়েলিংটনে গ্রেগ চ্যাপেল তাঁর এ সাফল্যকে ম্লান করে দেন। উভয় ইনিংসে তিনি হারম্যান গ্রিফিথের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সারের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। কাউন্টি দলটির পক্ষে ২৭ মৌসুমে ৫২৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৮৩ শতক সহযোগে ৩৩৩১২ রান তুলেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার তিন বছর পূর্বে খেলতে শুরু করেন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার দুই বছর পূর্বে শেষ করেন। কাউন্টি ক্রিকেটে বিখ্যাত তারকা ক্রিকেটার জ্যাক হবসের সাথে ছেষট্টিবার তিন অঙ্কের জুটি গড়েন। তন্মধ্যে, ১৯২৬ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ৪২৮ রান তুলেছিলেন। তবে, টেস্ট ক্রিকেটে দূর্ভাগ্যজনকভাবে জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে থাকতে হয়েছে। যেখানে হবস ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তিনি রান পেলেও দৃষ্টি হবসের দিকেই চলে যেতো।

১৯২৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০ এপ্রিল, ১৯৮২ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় ৯১ বছর ২৮৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট