|

ম্যাক্স ওয়াকার

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে তাসমানিয়ার ওয়েস্ট হোবার্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, স্থপতি, লেখক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ট্যাঙ্গেলস’ ডাকনামে ভূষিত ম্যাক্স ওয়াকার ১.৮৯ মিটার উচ্চতা ও ৮৪ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৪ টেস্ট ও ১৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জেফ থমসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজের প্রতিভার কথা জানান দেন। ছয়-উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংস্তম্ভ গুড়িয়ে দেন। খেলায় স্বাগতিকরা ৯২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। প্রথম টেস্টে আরও একজন ছয়-উইকেট পান। লিলি ও থমসনের দাপটে দলে তাঁকে টিকে থাকতে বেশ কষ্টসাধ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে হলেও পরিবর্তিত বোলার হিসেবে খেলতে তিনি নিরাশবোধ করতেন না।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ৩/১০৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৭৭ সালে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫১ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

জীবনের চেয়েও ক্রিকেটকে অধিক ভালোবাসতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের সফলতায় অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ডেনিস লিলি ও জেফ থমসনের যোগ্য সহচরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। টেস্টগুলো থেকে ১৩৮ উইকেট দখল করেছেন। অনেকের ন্যায় তিনিও ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর পুণরায় জাতীয় দলে যোগ দেন। ক্রমাগত আঘাতের কারণে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে।

ক্রিকেট মাঠে অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর হলেও মাঠের বাইরে বেশ সরব ভূমিকা রেখেছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর দশ বছর স্থাপত্যবিদের দায়িত্ব পালন করেন। ধারাবাহিকভাবে গল্পকাহিনী লিখতেন, ধারাভাষ্যকার হিসেবে সুনাম কুড়ান ও সানডে ফুটবল অনুষ্ঠানে অজি রুলসের বিচারকমণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করতেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পূর্বেই প্রথম-শ্রেণীর ফুটবলারের পরিচিতি পান। তাসমানিয়া থেকে ভিক্টোরিয়ায় অবস্থানকালীন ফুটবলার, ক্রিকেটার ও স্থাপত্যবিদ্যায় প্রশিক্ষণ নেন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে ৬/১৫ লাভ করলে ফুটবল ছেড়ে দেন। তাসত্ত্বেও, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মেলবোর্নের পক্ষে লীগের ৮৫ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, ক্রিকেটার হিসেবেই অধিক পরিচিতি পেয়েছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চ্যানেল নাইনের ওয়াইড ওয়ার্ল্ড অব স্পোর্টসে কেন সাটক্লিফের সাথে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন পিঠের সমস্যায় ভুগেন। অতঃপর, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে ৬৮ বছর ১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট