সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ের জন্যে ইনজামাম-উল-হকসেলিম মালিক অনেকগুলো বছর নিজেদের মাঝে ভাগাভাগি করে নিতেন। তবে, ইজাজ আহমেদের আগমনে এ ধারায় বিচ্যূতি ঘটে। দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহার না দিলেও বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতেন। তাঁর উইকেটে সামাল দেয়ার ব্যাপারটি এলবিডব্লিউ ধাঁচের ছিল না।

‘অ্যাক্সম্যান’ ডাকনামে পরিচিতি পান। অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের বলগুলো তাঁর কাছ থেকে নিস্তার পেতো না। পিছনের হাতে ভর দিয়ে ইজাজ তাঁর ব্যাটিং কৌশল পরিচালনায় অগ্রসর হতেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে গুজরানওয়ালা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, লাহোর, পাকিস্তান অটোমোবাইলস কর্পোরেশন ও রাওয়ালপিন্ডি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ব্যতিক্রমধর্মী শক্তিশালী স্কয়ার কাটের মার মারতেন ও তাঁর পা মিড-উইকেট বরাবর চলে যেতো। প্রয়োজনে মারমুখী ভূমিকা অবলম্বন করতেন। ফিল্ডিংকালে কভার অঞ্চলে অবস্থান করতেন। একবার রাউন্ড-আর্ম ভঙ্গীমায় মিডিয়াম পেস বোলিং করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেকে বেশ মেলে ধরতেন। ছয়টি শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৮৬ থেকে ২০০১ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৬০ টেস্ট ও ২৫০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৪ রানে জয় পায়।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এক পর্যায়ে আম্পায়ার জাভেদ আখতারের অঙ্গুলী হেলনে তাঁকে বিদেয় নিতে হলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হন। এরফলে তাঁর ম্যাচ ফি’র ৫০% জরিমানা ধার্য্য করা হয়। তবে, মোহাম্মদ জাহিদের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অপূর্ব খেলেন। ২২ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১২০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ ও একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, অধিনায়ক আমির সোহেলের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। ২৮০ রান ও এক উইকেট লাভ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পান।

একই মৌসুমে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ১২ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টেস্টে দূর্দান্ত খেলেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২১১ রান সংগ্রহ করেন। এ পর্যায়ে তৃতীয় উইকেট ইনজামাম-উল-হকের (২০০*) সাথে ৩৫২ রানের জুটি গড়েন। তাঁর অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে পাকিস্তান দল ইনিংস ও ১৭৫ রানে জয়লাভ করে শিরোপা পায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০০-০১ মৌসুমে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ মার্চ, ২০০১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, ড্যারিল টাফি’র দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১২ সালে জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। এক পর্যায়ে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২৬ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট