২৬ মার্চ, ১৮৭৪ তারিখে কেন্টের ব্ল্যাকহিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

নিজের সময়কালের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। বলকে নিখুঁত পন্থায় ও সঠিকভাবে বলকে আঘাত করতেন। দ্রুততার সাথে ও দক্ষতার সাথে বলকে বাঁক খাওয়াতে পারতেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত স্লিপ ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ছয় ফুটের অধিক উচ্চতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহার করতেন ও সর্বদাই সোজাসুজিভাবে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করতেন। কাটের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইনচেস্টারে পড়াশুনো করেছেন। বিদ্যালয় জীবনেই তাঁর মাঝে প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে নিজেকে ক্রিকেট বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেন।

১৮৯৩ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আলফ্রেড মিনের পর কেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সেরা শৌখিন অল-রাউন্ডারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ১৮৯৩ সালে কেন্টের ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ১৮৯৭ সালে ব্ল্যাকহিদে সমারসেটের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৮৩ রান তুলেন। ১৯০১ সালে টানটনে একই দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/২৯ লাভ করেন।

১৮৯৭ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, নিজ দেশে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেননি। এ. ই. স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তিনি অংশ নেন। এ সিরিজে তেমন সুবিধে করতে পারেননি।

১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ হার্স্ট, ফ্রাঙ্ক ড্রুস ও বিল স্টোরারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ও ৩২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২০ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৭ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০২ সালে নিজ দেশে টেস্টে অংশ নেয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। বার্মিংহাম টেস্টের জন্যে চৌদ্দজনের চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন। এ পর্যায়ে এসেও তিনি সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুবিধে করতে না পারলেও কেন্টের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ৩৪ শতক সহযোগে সতেরো হাজারের অধিক রান সংগ্রহসহ প্রায় সাড়ে আটশত প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছিলেন। ১৮৯৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

১৫ অক্টোবর, ১৯৫৮ তারিখে সাসেক্সের কুডেন বীচ এলাকায় ৮৪ বছর ২০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট