|

নরম্যান গালিচান

৩ জুন, ১৯০৬ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ছয় ফুটের অধিক উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। অধিকাংশ খেলাই ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত হক কাপে মানাওয়াতুর পক্ষে খেলেছেন। ১১.৫৯ গড়ে ১৭৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩২.৭৬ গড়ে ১৪০৯ তুলেন। সর্বোচ্চ করেন ১৪২ রান।

১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্লাঙ্কেট শীল্ডে নিজস্ব প্রথম মৌসুমে অংশ নিয়ে প্রথম তিন খেলা থেকে ১০ উইকেট পান। তবে, খুব কমই ওয়েলিংটন দলে খেলার সুযোগ পান। ১৯২৮ সালে অকল্যান্ডে ভি. ওয়াই. রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড একাদশের সদস্যরূপে খেলেছিলেন।

১৯৩৭ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন ১৪-সদস্যের কিউই দলের বাইরে ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খুব কমই ইংরেজ পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় ২৩.৯২ গড়ে ৫৯ উইকেট দখল করেছিলেন। গ্লাসগোয় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬/৪৬ পান। গেইন্সবোরায় মাইনর কাউন্টিজের বিপক্ষে খেলায় ৫/৫২ ও ৫/২০ পান।

ঐ একই সিরিজে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের পূর্বে অ্যাল্বি রবার্টস আঘাতের কবলে পড়লে তিনি খেলার সুযোগ পান। দুই ইনিংস থেকে ৩০ ও ২ রান সংগ্রহ করেন এবং খেলায় তিন উইকেটের সন্ধান পান। ৩/৯৯ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৩০ রানে জয় পেলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এ খেলার মাধ্যমেই ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায় ও তাঁকে আর খেলানো হয়নি।

তবে, ঐ সিরিজে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ খেলা উপহার দিয়েছিলেন। ২৩.৯৪ গড়ে ৫৯ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬/৪৬ লাভ করেছিলেন। সফরের শেষদিকে নিজস্ব সেরা বোলিং করেন। মাইনর কাউন্টিজের বিপক্ষে ৫/৫২ ও ৫/২০ পেয়েছিলেন।

মানাওয়াতুর পক্ষে খেলাকালীন ১১.৫৯ গড়ে ১৭৭ উইকেট ও ৩২.৭৬ গড়ে ১৪০৯ রান তুলেন। ২৫ মার্চ, ১৯৬৯ তারিখে ওয়াইকাতোর তাওপো এলাকায় ৬২ বছর ২৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    গ্রাহাম শ্যাভলিয়ার

    ৯ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    জিন হ্যারিস

    ১৮ জুলাই, ১৯২৭ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডীয় অল-রাউন্ডার ক্রিস হ্যারিসের পিতা হিসেবে অধিক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের…

  • |

    নাদিম খান

    ১০ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে নিচেসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক,…

  • |

    ল্যান্স কেয়ার্নস

    ১০ অক্টোবর, ১৯৪৯ তারিখে মার্লবোরার পিকটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম মারকুটে ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পেয়েছেন। সুইং বোলারদের বিপক্ষে খেলতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বড় ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।…

  • | | | |

    ডোনাল্ড কার

    ২৮ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে জার্মানির ওয়াইজবাডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলকে এক টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যাট হাতে নিয়ে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন ও কার্যকর বোলিংয়ে অংশ…

  • |

    জন ওয়াটকিন্স

    ১৬ এপ্রিল, ১৯৪৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিউক্যাসলের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…