২৫ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে লাঘমান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আফগানিস্তানের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম।
আলতোভাবে, নিখুঁততা বজায় রেখে বোলিং করেন। এছাড়াও, বলকে ঘুরাতে পারেন। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১০ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি মাত্র তিনটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, পরের বছর বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন ও ২০১১ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে নিয়ে যান। ২০১১ সাল থেকে ফয়সাল ব্যাংক টি২০ কাপে অংশগ্রহণ করছেন। আফগানিস্তানের প্রধান টি২০ প্রতিযোগিতায় আফগান চিতার পক্ষে খেলেন। কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে আফগানিস্তানের জাতীয় টি২০ দলের সদস্যভূক্ত হতে সহায়তা করে।
মোহাম্মদ আসিফকে তাঁর প্রিয় খেলোয়াড়ের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে স্পিন গড় রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দাম্পটনশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আইসিসিএ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কেনিয়া বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে অনেকটা আগেভাগেই প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৩০ জুলাই, ২০১৬ তারিখে ভুরবার্গে অনুষ্ঠিত খেলায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই দিনেই ইনিংস ও ৩৬ রানের বিজয়ে অংশ নেন। ২০১৫-১৭ ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা বিজয়ী আফগানিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
২০১৫ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৯ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত খেলায় ওমানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একমাস পর ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে শারজায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। নিম্নমূখী রানের খেলায় তিন ওভার থেকে একটি মেইডেন ওভারসহ মাত্র চার রান খরচ করেন। ঐ খেলায় আফগান দল ৪৯ রানে বিজয়ী হয়েছিল।
২০১৮ সালে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আফগানিস্তানের টেস্টের ইতিহাসে প্রথম উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে শতক হাঁকানো শিখর ধবনের উইকেট পান। একমাত্র ইনিংস থেকে ৩/৫১ লাভ করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ২৬২ রানের ব্যবধানে পরাভূত হয়।
২৫ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজকে ঘিরে ইব্রাহীম জাদরানের সাথে তাঁকে আফগানিস্তান দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০২৩ সালে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র অধিনায়কত্বে একমাত্র টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফর করেন। ১৪ জুন, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ৫৪৬ রানের সুবিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ২/৩৯ ও ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০* ও ১৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাজয়বরণ করে।
