| |

আসগর আফগান

২২ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আফগানিস্তানের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান আসগর আফগানের ব্যাটিংয়ের ধরন অনেকাংশেই মার-মার কাট-কাট গোছের। দৃঢ় চিত্তে ক্রিজে তাঁর উপস্থিতি মানেই আক্রমণাত্মক স্ট্রোকপ্লের ফুলঝুড়িতে আচ্ছাদিত। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে অ্যামো রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আফগানিস্তান ঈগলস ও এশিয়া লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগের বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল কান্দাহার নাইটসের সদস্য তিনি।

আন্তর্জাতিক খেলায় আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের শুরুর দিনগুলোয় দলের সতীর্থ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের অনেকের সাথে তুলনান্তে তাঁর খেলার ধরন বেশ ব্যতিক্রমী পর্যায়ের। শট বলের উপর খড়গ হস্ত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন ও দলের অমূল্য সম্পদ হিসেবে নিজেকে পরিচিতি ঘটান।

২০০৪ সালে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের পক্ষে প্রথম খেলেন। ২০০৮ থেকে ২০০৯ সময়কালে আফগানিস্তানের বিশ্ব ক্রিকেট লীগ পঞ্চম বিভাগ, চতুর্থ বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগের শিরোপা বিজয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এরফলে, আফগানিস্তান দল ২০০৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনসহ ওডিআই মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে বারমুডার বিপক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এরপর, ১৯ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে বেনোনিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। খেলায় মাত্র ৯ রান তুললেও তাঁর দল ৮৯ রানে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে, ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কা ও কানাডার অংশগ্রহণে চতুর্দেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশ নেন। ঐ খেলায় তিনি মাত্র ১ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন ও তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হয়।

বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে আফগানিস্তানের প্রথম অংশগ্রহণ হিসেবে ২০১০ সালের আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় দলের সদস্যরূপে খেলেছেন। এছাড়াও মার্চ, ২০১৪ সালে টেস্টভুক্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে দলের প্রথম বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দলের ভিত্তি স্থাপনে কোন বাউন্ডারি ছাড়াই ৭৩ বলে ৩৭ রান তুলেন। এরপর ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান। তন্মধ্যে, একটি ছক্কা মাঠের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে ফেলেন। শেষ দশ ওভারে সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে সাথে নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ১৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় এনে দেন।

কয়েক বছর তাঁর নেতৃত্ব কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। এক পর্যায়ে আফগান ক্রিকেটে অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে চিত্রিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সালে মোহাম্মদ নবি’র কাছ থেকে নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর থেকে উত্তরোত্তর দলকে শক্তিধর দলে রূপান্তরিতকরণে অগ্রসর হন। আইসিসি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ঐ প্রতিযোগিতার শুরুতে তিনি দলের সদস্য ছিলেন না ও তাঁর অনুপস্থিতিতে দলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম তিন খেলায় দল পরাজিত হয় ও প্রথম রাউন্ডেই দলের বিদায়ের ঘণ্টা বাজতে থাকে। তবে, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার শেষে দুই সপ্তাহ পর দলে ফিরে আসেন ও উপর্যুপরী পরবর্তী তিন খেলায় জয় পেয়ে দলকে বিশ্বকাপে উত্তরণ ঘটান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে তিনি ব্যথা নিয়েও দলের বিজয়ে অংশ নেন।

আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অধিনায়কত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ভারতের বিপক্ষে ঐ খেলাটি মাত্র দুইদিনেই শেষ হয়ে যায়। স্বাগতিক ভারত দল ইনিংস ও ২৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। প্রথম ইনিংসে ১১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান তুলেন। এছাড়াও, ২০১৯ সালে দলের দ্বিতীয় টেস্টে অধিনায়কত্ব করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়ে নেতৃত্ব দেন।

১২ জুলাই, ২০১৯ তারিখে রশীদ খানকে আফগানিস্তানের সকল স্তরের ক্রিকেটে অধিনায়ক করা হয় ও নিজে সহঃ অধিনায়কের দায়িত্ব পান। ২ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন। এ বছর হাশমতউল্লাহ শাহীদিকে সাথে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৩০৭ রানের জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৪ রান সংগ্রহসহ আফগানিস্তানের পক্ষে যে-কোন উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন।

অধিনায়ক হিসেবে তাঁর শেষের বছরগুলো বরখাস্ত ও পুণরায় নিয়োগের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। টি২০ বিশ্বকাপ শেষে ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান। অবসরগ্রহণকালীন টি২০আইয়ে অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক জয়ের রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ইয়ন মর্গ্যান ও এমএস ধোনি’র ন্যায় ক্রিকেটারের সাফল্যকে ছাঁপিয়ে যান।

Similar Posts

  • | |

    অ্যাথল ম্যাককিনন

    ১৬ আগস্ট, ১৯৩২ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। পোলক ভ্রাতাদের ন্যায় তিনিও গ্রে হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৫২-৫৩…

  • | |

    ম্যালকম মার্শাল

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৫৮ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এক কথায় ১৯৮০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক অবিস্মরণীয় ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। অগ্নিময়…

  • | |

    এডি বার্লো

    ১২ আগস্ট, ১৯৪০ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ব্লান্টার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন ও ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। খেলাকালীন চশমা পরিধান করতেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে খুব সহজেই…

  • |

    সৌম্য সরকার

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিতার ন্যায় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হতে চেয়েছিলেন। দর্শনীয় ব্যাটিংশৈলীর অধিকারী ও মিডিয়াম পেস বোলিং করে থাকেন। কিশোর অবস্থাতেই দর্শনীয়ভাবে ব্যাটিং করতে অভ্যস্ত ছিলেন। মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও যথেষ্ট…

  • |

    আইজাক বাইস

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে কেপ কলোনির সমারসেট ইস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯২৪-২৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    গ্রায়েম ল্যাব্রয়

    ৭ জুন, ১৯৬৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬ থেকে…