|

ব্রায়ান বেনেট

১০ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তাঁর যমজ ভ্রাতা ডেভিড বেনেট ২০২২ সালে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাউন্টেনিয়ার্স ও সাউদার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্দার্নস, জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৩ ও ১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত মাউন্টেনিয়ার্স বনাম ঈগলসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

সহজাত প্রকৃতির আগ্রাসী শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ও প্রথিতযশা অফ-স্পিনার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। খুব স্বভাবতঃই জিম্বাবুয়ের জ্যেষ্ঠ দলে তাঁর যোগদান সময়ের ব্যাপার ছিল। ২০২২ সালের শুরুতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় সফলতম সময় অতিবাহিত করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ছয় খেলা থেকে ৪৫.৫০ গড়ে ২৭৩ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ের শীর্ষ রান সংগ্রাহক ছিলেন। এরপর মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। তিনি স্পেন্সার মাগোদো’র পরিবর্তে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

খুব শীঘ্রই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সালে টি২০ ক্রিকেটে অংশ নেন। প্রথম খেলাতেই ২২ বলে ৪১ রান তুলেন। এর দশ মাস পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আই খেলার সুযোগ পান। নিজস্ব পঞ্চম খেলায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতক হাঁকান। ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সালে ঈগলসের বিপক্ষে ২৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিজেকে সম্মুখসারিতে নিয়ে আসেন। ২৫৯ বল মোকাবেলায় ৩৩ চার ও তিনটি ছক্কার সহায়তায় তাঁর এ ইনিংসের কল্যাণে মাউন্টেনিয়ার্স ১০৮ ওভারে ৬৩১/৭ রান সংগ্রহ করে।

২০২৩ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। ১২ জুলাই, ২০২৪ তারিখে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র-টেস্ট খেলতে ক্লাইভ মাদান্দে ও জোনাথন ক্যাম্পবেলের সাথে তাঁকে মনোনীত করা হয়। ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ীয় দলের সাথে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুলাই, ২০২৪ তারিখে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৮ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বেই ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় ৪৯ বল মোকাবেলায় ৭০ রানের ইনিংস খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম অর্ধ-শতক হাঁকান। মে, ২০২৪ সালে পঞ্চম টি২০আইয়ে বাংলাদেশের মুখোমুখি হন। প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে সিরিজে জিম্বাবুয়ের একমাত্র জয়ে ভূমিকা রাখেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২৪ বল মোকাবেলায় ১১০* রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর এ শতকটি প্রথম ছিল। এ পর্যায়ে ৬৪.০০ গড়ে ১২৮ রান সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ৫/৯৫ লাভ করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ২২ মে, ২০২৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১০ রান অতিক্রম করেন। ১৪১ বল মোকাবেলায় ১৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর এ শতকটি ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ছিল। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৮.৩৩ গড়ে ৪৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে সফরকারীরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই পরাজয়বরণ করে। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, ইংল্যান্ড দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে জয়লাভ করে ও একটি ড্র হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৩ রানে জয়লাভ করে।

Similar Posts

  • | | |

    এজরা মোসলে

    ৫ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে বার্বাডোসের ওয়াল্ড্রন্স ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান…

  • |

    কাইল ভেরিন

    ১২ মে, ১৯৯৭ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। উইনবার্গ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এবি ডি ভিলিয়ার্সকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। সোজাসাপ্টা ড্রাইভ খেলতেই অধিক পছন্দ করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ…

  • |

    আসাদ শফিক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড,…

  • | | |

    মদন লাল

    ২০ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম থেকে ১৯৯১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কয়েক…

  • | |

    গর্ডন লেগাট

    ২৭ মে, ১৯২৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৫২-৫৩…

  • | |

    প্যাটসি হেনড্রেন

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৯ তারিখে মিডলসেক্সের টার্নহাম গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৯০৫ সালে লর্ডসের মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। ১৯০৭ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত…