২৭ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে ঝিনাইদহে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশের দক্ষিণে ঝিনাইদহে জন্ম ও শৈশবকাল সেখানেই অতিবাহিত করেন। লিকলিকে গড়নের মিডিয়াম পেসার। মঞ্জুরুল ইসলাম, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সৈয়দ রাসেল, রুবেল হোসেন ও রবিউল ইসলামের ন্যায় বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বেশ কয়েকজন পেস বোলারের অন্যতম।
২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল ও খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, জেমকন খুলনা ও বরিশাল বার্নার্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০১১ সালে কিছু সময়ের জন্যে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং গুরু সারোয়ার ইমরানের ছত্রচ্ছায়ায় সময় কাটান। এরপর, মিরপুরভিত্তিক শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে পেস বোলারদের শিবিরে উপস্থিত থাকার জন্যে আমন্ত্রণ পান। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে যশোরে অনুষ্ঠিত খেলায় খুলনা বিভাগের সদস্যরূপে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে খেলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। চট্টগ্রামের বিপক্ষে খেলায় ১২ উইকেট নিয়ে দলকে আট উইকেটে জয় এনে দেন। জাতীয় লীগের দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজশাহীর বিপক্ষে খেলায় ৫৮ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেন। এরফলে, তাঁর দল আট উইকেটে জয়লাভ করে। ফতুল্লার নারায়ণগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিম্নমূখী রানের খেলাটি মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক মৌসুমে ১৩ খেলা থেকে ১৯.২৬ গড়ে ৩৯ উইকেট দখল করেছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করতে না পারলেও কিছু সময় পর বিসিবি’র জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতাসমূহে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সদস্য হন। প্রথম অনানুষ্ঠানিক ওডিআইয়ে জো রুট, জেমস টেলর ও জেমস ভিন্সকে বিদেয় করে ইংল্যান্ড লায়ন্সের সংগ্রহকে এক পর্যায়ে ৩৮/৪-এ নিয়ে যান। ঐ বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে আবাহনী লিমিটেডের সদস্যরূপে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের বিপক্ষে ৬/১৬ লাভ করেন। এরফলে প্রতিপক্ষ মাত্র ৩৫ রানে গুটিয়ে যায় ও ২১২ রানের রেকর্ডসংখ্যক জয়ে ভূমিকা রাখেন। প্রথম ১১ ওভারে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের সকলকে বধ করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান।
২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৩ সালের শেষদিকে টেস্ট ও টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বে নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হন। ২১ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে ৭০তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশ দলের সদস্যরূপে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় তিনি ৫৮ রান খরচায় এক উইকেট লাভ করেন। কোরে অ্যান্ডারসন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। একই সফরের ৬ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে ঢাকায় প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত সিরিজে ভালো খেলেন। দুই টেস্ট ও একটি ওডিআইয়ে অংশ নেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এশিয়া কাপের ২০১৪ সালের আসরে মাত্র দুই খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
সিলেটে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের সদস্যরূপে ঘরোয়া টি২০ খেলায় এক ওভারে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ক্রিকেটের যে-কোন স্তরের চেয়ে টি২০ খেলায় অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে, বাংলাদেশের পক্ষে ওডিআইয়েও বেশ ভালো করেছেন। আগস্ট, ২০১৪ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ অনুষ্ঠিত ওডিআই সিরিজে দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট চলাকালীন অবৈধ বোলিং করার অভিযোগ উঠে। তবে, চেন্নাইয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে আইসিসি কর্তৃপক্ষ তাঁর বোলিংয়ের বৈধতা প্রদান করে। জানুয়ারি, ২০১৫ সালে বিসিবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় আনে।
বোলিং ভঙ্গীমায় পরিবর্তন আনেন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পান। তবে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রতিযোগিতা চলাকালীন তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। বিসিবি তদন্ত করে তাঁর উপর আনীত অভিযোগ মিথ্যা হিসেবে প্রতিবেদনে দাখিল করে। ঘটনা আরও নিচেরদিকে চলে যায়। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের আসরে সাব্বির রহমানের সাথে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে জরিমানার সম্মুখীন হন। এরফলে, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। ২০১৭ সালের বিপিএলের খসড়া তালিকা থেকে চিটাগং ভাইকিংস তাঁর সাথে চুক্তিতে উপনীত হয়।
২০১৯-২০ মৌসুমে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১ ও ২১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৫ লাভ করেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৪৬ রানের ব্যবধানে জয় পায় এবং ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
