|

নমন ওঝা

২০ জুলাই, ১৯৮৩ তারিখে মধ্যপ্রদেশের উজ্জ্বয়িনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। শীর্ষসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে মধ্যপ্রদেশের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে থাকেন। ঐ মৌসুমে ৩৬.৩১ গড়ে রান তুলেন। সর্বোচ্চ ২১৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমের চ্যালেঞ্জার ট্রফিতেও বেশ ভালো খেলেন। ইন্ডিয়া গ্রীনের পক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটেই অধিক দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।

২০০৯ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের দ্বিতীয় আসরে রাজস্থান দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২০১০ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে দূর্দান্ত ৯৪ রান তুলেছিলেন। ২০১১ সালে দিল্লির সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৪ সালে হায়দ্রাবাদের সদস্য হন। এ বছর ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় বেশ হিমশিম খান। নিজ রাজ্য দল মধ্যপ্রদেশের পক্ষে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে চার খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ২১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। আইপিএলে ১১৩ খেলা থেকে ২০.৭২ গড়ে ১৫৫৪ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। সব মিলিয়ে আইপিএলে ১২১টি চার ও ৭৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, সমসংখ্যক ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০১০ সালে ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলতে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ও বিকল্প উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলার সুযোগ পান। ৫ জুন, ২০১০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১ রান তুলে তিনি বিদেয় নেন। একই সফরের ১২ জুন, ২০১০ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৮ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২১ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, চেতেশ্বর পুজারা’র ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১১৭ রানে জয়লাভ করে ও ২-১ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজ জয় করে।

প্রায় সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনই বিখ্যাত তারকা ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিংয়ের আধিপত্য বিস্তারের কারণে খেলতে পারেননি। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • | |

    রিচার্ড হ্যাডলি

    ৩ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের সেন্ট অ্যালবান্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ক্রাইস্টচার্চ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে…

  • |

    খালিদ ওয়াজির

    ২৭ এপ্রিল, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডার হিসেবেও…

  • | |

    সিরিল ভিনসেন্ট

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্পিনারদের আদিভূমি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার তেমন পরিচিতি না থাকলেও তাঁর মাধ্যমে দেশের পরিচিতি ঘটে। এছাড়াও, দীর্ঘ সময়…

  • |

    জ্যাক ম্যাকব্রায়ান

    ২২ জুলাই, ১৮৯২ তারিখে উইল্টশায়ারের বক্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দূর্দান্ত ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। তবে, মন্দ ভাগ্যের কবলে পড়ে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যায়। এক্সটার স্কুলে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। তবে,…

  • | |

    কেভিন ও’ব্রায়ান

    ৪ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংসহ ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। আয়ারল্যান্ডের সর্বাপেক্ষা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের অন্যতম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমসিসি’র পরিচালনায় কাউন্টি ক্রিকেটে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার উদ্দেশ্যে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ন্যায় তিনিও এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্স থেকে প্রশিক্ষণ…

  • |

    ব্রুস মারে

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ তারিখে ওয়েলিংটনের জনসনভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘাকায় গড়নের অধিকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘদিন অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল তাঁকে। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…