১৮ অক্টোবর, ১৯৯১ তারিখে গুজরাতের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৯ সালে সেন্ট মেরিজ স্কুল থেকে পড়াশুনো শেষ করেন। পোরবন্দরে দিলীপ ক্রিকেট স্কুলে কোচ রাম ওদেদ্রা’র সন্তুষ্টি অর্জন করেন। খেলার শুরুতেই উইকেট নেয়ার দক্ষতা রয়েছে তাঁর। ২০১০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের পক্ষে খেলেছেন। চার খেলা থেকে সাত উইকেট পেয়েছিলেন।
২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।
২০১০ সালে রঞ্জী ট্রফিতে সৌরাষ্ট্রের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। দূর্দান্ত খেলে একই বছরের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে জায়গা করে নেন। দলের বোলিং কোচ ওয়াসিম আকরামের সুনজরে ছিলেন। জুন, ২০১০ সালে ভারত ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। গ্রেস রোডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৩ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। দারুণ খেলার সুবাদে ভারতের টেস্ট দলে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
২০১০ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১০-১১ মৌসুমে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, ঐ টেস্টে তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয় তাঁর দল এবং তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, পরের খেলা থেকে বাদ পড়েন। এরপর, প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে সৌরাষ্ট্রের পক্ষে খেলতে থাকেন।
২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। পাঁচ খেলা থেকে আট উইকেট দখল করেন। ২০১৬ সালে একই দলের বিপক্ষে হারারেতে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।
২০১১-১২ মৌসুমের আইপিএল আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেন। ২০১৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে চলে যান। এ পর্যায়ে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে ৫/২৫ পান। ২০১৪ সালে ₹২.৮ কোটি রূপীর বিনিময়ে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৬ সালে আবারও কলকাতা নাইট রাইডার্সে ফিরে যান। এরপর, ২০১৭ সালের আসরের রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের সাথে যুক্ত হন। এ আসরে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে শেষ ওভারে হ্যাট্রিক লাভ করেন। ২০১৮ সালে রাজস্থান রয়্যালসে ₹১১.৫ কোটি রূপীর বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। এরফলে, নিলামে সর্বাপেক্ষা দামী ভারতীয় ক্রিকেটারে পরিণত হন।
২০২৩ সালে রোহিত শর্মা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ১২ জুলাই, ২০২৩ তারিখে রোজিওতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ০/১৭ ও ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দূর্দান্ত বোলিং ও যশস্বী যশওয়ালের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪১ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২০ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। মোহাম্মদ সিরাজের বোলিংয়ের দাপটে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ৭ রান সংগ্রহসহ ০/৪৪ ও ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
