|

টেরি ডাফিন

২০ মার্চ, ১৯৮২ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

খাঁটিমানের ও মোটাসোটা গড়নের অধিকারী টেরি ডাফিন বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্লামট্রি হাই স্কুলে অধ্যয়নকালীন বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমি ও ম্যাশোনাল্যান্ড ডিস্ট্রিক্টস দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৮ ও ২০০০ সালে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেললেও আঘাতের কারণে ১৯৯৯ সালে অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর, ২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে অভিষেক মৌসুমেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করেছেন।

মিডল্যান্ডস দলে চলে যান ও সেখানে তিন মৌসুম খেলেন। আরও অধিক খেলায় অংশগ্রহণের কথা চিন্তায় এনে ২০০৪-০৫ মৌসুমে মাতাবেলেল্যান্ডের সদস্য হন। অবশেষে তাঁর স্বপ্ন স্বার্থক হয় ও চমৎকার মৌসুম অতিবাহিত করেন। ঐ মৌসুমে দলের সাথে বাংলাদেশ গমনার্থে সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। পরের বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হলেও আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি।

২০০৫ থেকে ২০০৭ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উভয় টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারত দলের মুখোমুখি হন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে চার্লস কভেন্ট্রি’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ইনিংস ও ৯০ রানে সফরকারীরা জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ৫৬ ও ২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

এরপর, একই সফরের ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সফরকারী ভারত দল ১০ উইকেটে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ১২ ও ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

একই মৌসুমে খেলোয়াড়দের সাথে আর্থিক মতবিরোধ চলাকালীন শেষদিকে অবস্থান নেন। বোর্ডের সাথে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ও জাতীয় দলের অধিনায়ক টাটেন্ডা তাইবু’র স্থলাভিষিক্ত হন। এ দায়িত্ব লাভের জন্যে কোচ কেভিন কারেন তাঁকে অগ্রাধিকার দেন। অন্যান্যদের সাথে তুলনান্তে পরিপক্ক খেলোয়াড়ের ন্যায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট ছিলেন।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সীমাবদ্ধতার বিষয়টি চোখে পড়ে। এ যাত্রা রক্ষা পেলেও ওডিআইয়ে রান রেট অনুযায়ী কোন অবস্থানেই বড় ধরনের ইনিংস খেলতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এমনকি বিস্ময়করভাবে জুলাই, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর পূর্বে অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল।

Similar Posts

  • |

    তানজিম হাসান সাকিব

    ২০ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিলেট স্ট্রাইকার্স, লিজেন্ডস অব…

  • |

    স্ট্যানলি ক্রিস্টোফারসন

    ১১ নভেম্বর, ১৮৬১ তারিখে কেন্টের কিডব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৮৩ থেকে ১৮৯০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কেন্টের দশ ক্রিস্টোফারসন…

  • |

    অ্যান্ডি ব্লিগনট

    ১ আগস্ট, ১৯৭৮ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আরামপ্রিয় চরিত্রের অধিকারী। নামের প্রথমাংশ আর্নোল্ডাস মৌরিতাস দিয়েই বোঝা যায় যে, আফ্রিকানার কৃষক পরিবারের সন্তান। স্বীয় শক্তিমত্তার সাথে সঙ্গতি রেখে পেস বোলিং রপ্ত করেছেন। ১৯৯৭-৯৮…

  • |

    টাইরেল জনসন

    ১০ জানুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে ত্রিনিদাদের টুনাপুনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ লম্বাটে ও শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ক্ষীপ্রতা সহকারে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, প্রয়োজনে কার্যকর ইন-সুইং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…

  • |

    যশস্বী যশওয়াল

    ২৮ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির সূর্য্যবন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯, ভারত ‘বি’, ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে…

  • | |

    রামনাথ কেনি

    ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও বোম্বে…