১৯ অক্টোবর, ১৯৪৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পারডাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ডাচি হল্যান্ড’ ডাকনামে পরিচিতি পান। নিউক্যাসলের ক্লাব ক্রিকেটে সরব ছিলেন। আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বনে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ৩২ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এরপর থেকে দলের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ১৯৮০-এর দশকে শেফিল্ড শীল্ডে তিনবার শিরোপা বিজয়ে দলটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রায় চল্লিশের বয়সে এসেও রাজ্য দলের পক্ষে খেলেছিলেন।
১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেয়ার ছয় বছর পর বেশ দেরীতে ৩৮ বছর বয়সে ২৩ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এরফলে, অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ডেভিড বুনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
ঐ সিরিজের সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিজস্ব তৃতীয় টেস্টে ১৪৪ রান খরচায় দশ উইকেট দখল করেন। এরফলে শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের বিপক্ষে তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পায় ও তাদের জয়ের ধারায় ছেদ ঘটায়। একই সফরের ১৫ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। ঐ বছরের অ্যাশেজ সিরিজে লর্ডসে আরও একবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। পরের মৌসুমে একই মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৪ রান খরচায় দশ উইকেট লাভ করেছিলেন।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কৃষ শ্রীকান্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৩৯.৭৬ গড়ে ৩৪ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ব্যাট হাতে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। মাত্র ৩.১৮ গড়ে রান পেয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ক্যারোলিন নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২০১৭ সালের শুরুতে মস্তিষ্কের ক্যান্সারের চিকিৎসা করানো হয়। অতঃপর, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় অবস্থিত নিউক্যাসল হাসপাতালে ৭০ বছর ৩৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
