|

রায়ান ম্যাকলারিন

৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৩ থেকে ২০১৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ঈগলস, ফ্রি স্টেট এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, কেন্ট ও মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে বেনোনিতে ইস্টার্নস বনাম ফ্রি স্টেটের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, ৫৪টি ওডিআই ও ১২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৬ বছর বয়সে ৮ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে বেনোনিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। খেলায় তিন উইকেট লাভসহ ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ওয়েন পার্নেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। আঘাতের কবলে পড়া ফ্রিডেল ডি ওয়েটের স্থলাভিষিক্ত হন। প্রথম ইনিংসে আস্থার সাথে ৭৭ বল মোকাবেলায় ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের ইনিংস ব্যবধানের বিজয়ে অবদান রাখেন। আগ্রাসী বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হলেও একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ১/৩০ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইন ও মর্নে মরকেলের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৪ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। একই সফরের ১৩ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন। তিন উইকেট পেলেও খেলায় তাঁর দল পরাজয়ের কবলে পড়ে।

২০১০ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেন। এরপর, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবে চলে যান। ২০১১ সালে মিডলসেক্সের সদস্য হন। ২০১৩ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে হ্যাম্পশায়ারে যোগ দেন। পরবর্তীতে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৭২ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মিচেল জনসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। মিচেল জনসনের অনবদ্য বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ২৮১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে স্বীয় অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে বেশ মেলে ধরেছিলেন। শন পোলকজ্যাক ক্যালিসের দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর কারণে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। মূলতঃ ক্ষুদ্রতর সংস্করণে অল-রাউন্ডার হিসেবে সফল হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    প্লাম লুইস

    ২ অক্টোবর, ১৮৮৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুম থেকে ১৯১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন…

  • | | |

    এমএল জয়সীমা

    ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের সেকান্দারাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশকে টাইগার পতৌদি, সেলিম দুরানি’র ন্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ ১০জন তারকা ক্রিকেটারের অন্যতম ছিলেন। তন্মধ্যে, টাইগার…

  • |

    নীল র‌্যাডফোর্ড

    ৭ জুন, ১৯৫৭ তারিখে নর্দার্ন রোডেশিয়ার লুয়ানশিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলত বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী নীল র‍্যাডফোর্ড জোহানেসবার্গভিত্তিক অ্যাথলোন বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে…

  • |

    মিকাইল লুইস

    ১৯ আগস্ট, ২০০০ তারিখে সেন্ট কিটস ও নেভিসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে থাকেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভ্রাতা জেএস লুইস প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে…

  • |

    অ্যাডাম ডেল

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইভানহো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছন্দোবদ্ধ বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দক্ষতার সাথে সুইংসহ সিম বোলিং করতেন। শূন্যে বলকে ঘুরানোর পাশাপাশি অফের দিকে বল ফেলতেন ও প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত…

  • |

    বিজয় ভরদ্বাজ

    ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘আর বিজয়’ নামে পরিচিত বিজয় ভরদ্বাজ পরিচ্ছন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও অফ-স্পিনার ছিলেন। চশমা পরিধান করে খেলায় নামতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধারা…