|

নীল ওয়াগনার

১৩ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। আফ্রিকান্স হাই স্কুল প্রথম একাদশের পক্ষে তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ক্রিকেট খেলার আগ্রহকে স্বার্থক করে তুলতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসিত হন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো, দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্দার্নস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নর্দার্নসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রথমবারের মতো অংশ নেন। চার-উইকেট নিয়ে দ্রুত নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট হন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় একাডেমি দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ গমন করেন। প্রোটীয়দের পক্ষে দুই খেলায় দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

তবে, নিজ দেশে প্রণীত অংশগ্রহণের শর্তাবলীর কারণে খেলার সুযোগ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের পথে রওয়ানা দেন। ২০০৯ সালের প্রথম মৌসুমেই ওতাগোর পক্ষে ২১ উইকেট দখল করেন। পরবর্তী বছরগুলোয় এ হার ক্রমশঃ বাড়তে থাকে। ২০১০-১১ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডে উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেন। পরের মৌসুমে ৪৬ উইকেট পান। ক্রমাগত সফলতা লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।

২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২ সালে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৫ জুন, ২০১২ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে একটি উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট শূন্য ছিলেন। ১/১১২ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সুনীল নারাইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলেন। ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ডেল স্টেইনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা ধীরলয়ে হলেও পরবর্তীতে তা গতির সঞ্চার আনয়ণে সচেষ্ট হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। একই মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষর রাখেন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১২ উইকেট দখল করেন। এ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন।

এ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৬ মার্চ, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে আইআর বেলের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২৪। খেলায় তিনি ৪/৪২ ও ৩/১৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৩ সালে ফিরতি সফরে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ইংল্যান্ডে যান। ২৪ মে, ২০১৩ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৩ ও ২/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্রায়েম সোয়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ২৪৭ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

এরপর, ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ক্রমাগত সাফল্যের কারণে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। উভয় দিক দিয়ে সুইংয়ের পাশাপাশি রিভার্স সুইংয়ে নিজেকে প্রতিপক্ষের সমীহের পাত্রে পরিণত করেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ ও ৩/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রস টেলরের অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ভারতের প্রথম ইনিংসে জেড খানের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/১০৬ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৫* ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ত্রি-শতক স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০১৫ সালের শেষদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপূর্ব খেলেন। এরপর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ছয়-উইকেট পেয়েছিলেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১০ ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৭/১০৬ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জো বার্নসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। দুই টেস্ট থেকে ১১ উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম টেস্টে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন ও ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৪২ ও ০/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রবীন্দ্র জাদেজা’র অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ঐ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে বাবর আজমের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ০/১৩ ও ৩/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে এসটি গ্যাব্রিয়েলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/৪১। বল হাতে নিয়ে ৭/৩৯ ও ২/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিং দাপটে তাঁর দল ইনিংস ও ৬৭ রানের ব্যবধানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৮-১৯ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ইয়াসির শাহের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে ১/৩০ ও ২/২৭ পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১২ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এজাজ প্যাটেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে নিউজিল্যান্ড দল ৪ রানের নাটকীয় জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে স্যাম কারেনের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ৫/১২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এ সিরিজে ১৩ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

একই মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে দিবা-রাত্রির টেস্টে অংশ নেন। সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে ৪/৯২ ও ৩/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মিচেল স্টার্কের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। মিচেল স্টার্কের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে বেন ফোকসের তৃতীয় উইকেট লাভ করে ২৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪/৮২ ও ২/১১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২৭ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হ্যারি ব্রুকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৬৭ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৩২ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। সিদ্ধার্থ মোঙ্গা নাম্নী এক রমণীকে বিয়ে করেন।

Similar Posts

  • |

    আসাদ শফিক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড,…

  • |

    শাহাদাত হোসেন, ১৯৮৬

    ৭ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রাজিব’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    উইলিয়াম মোল

    ৩১ জানুয়ারি, ১৮৫৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রাইটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে…

  • | |

    সিদাথ ওয়েতিমুনি

    ১২ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২৩ টেস্ট…

  • |

    ডিকি রিচার্ডস

    ২৬ মার্চ, ১৮৬২ তারিখে কেপ কলোনির গ্রাহামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে অব্রে স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন।…

  • |

    স্টু গিলেস্পি

    ২ মার্চ, ১৯৫৭ তারিখে ওয়াঙ্গানুই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এ মৌসুমে ২২.১৭ গড়ে ৪৫ উইকেট নিয়ে নিজস্ব স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। তবে, চার বছর নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে…