|

জর্জ ডকরেল

২২ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।

কিশোর অবস্থা থেকে উত্তরণের পর দূর্লভ প্রতিভাবান বামহাতি স্পিনার হিসেবে চিহ্নিত হন। ১৭ বছর বয়সে ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৩১ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা বোর্ডের বিপক্ষে ঐ খেলায় অংশ নেন। আরও স্মরণীয় বিষয় ছিল যে, চার বছর পূর্বে বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করেন। অথচ, সিম বোলিং পরিবর্তন করে স্পিন বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

ডাবলিনভিত্তিক লিনস্টার ক্রিকেট ক্লাবে খেলা শেখেন। ৬৭৪ নম্বর ক্যাপ লাভ করেন। আয়ারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৩ দলের পক্ষে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নেন। হংকংয়ের বিপক্ষে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বে ৬/১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে জয় এনে দেন।

২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে লিনস্টার লাইটনিং ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১১ আগস্ট, ২০১০ তারিখে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ড বনাম নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান।

২০১০ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১০ সালে বড়দের দলে প্রথম খেলার সুযোগ পান। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২/১১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। এরপর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩/১৬ লাভ করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে অংশ নেয়ার মাত্র চার বছর পূর্ব থেকে বোলিংয়ের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন।

১৭ বছর বয়সে ১৫ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন। এছাড়াও, ২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ড দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

খেলাধূলার কারণে কখনো শিক্ষাজীবন থেকে দূরে রাখেননি নিজেকে। ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন। পিতা ডেরেক আয়ারল্যান্ডের শৌখিন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারেননি। আইরিশ ক্রিকেটের সম্পূর্ণ ভিন্ন যুগে জর্জ ডকরেল খেলেছেন।

১৩ বছর বয়সে কোচ ব্রায়ান ও’রোর্ক ওয়েলসে আয়ারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দল নিয়ে গমনকালে গাড়ী রাখার স্থানে স্পিন বোলিংরত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর খুব দ্রুত আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শুরতে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে না পারলেও পরবর্তীতে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ২০১০ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ড দলের মূল খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার কারণে বৃহৎ শক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নিতে পারেননি। তবে, এক মাস পরই সমারসেট থেকে দুই-বছরের চুক্তিতে খেলার জন্যে প্রস্তাবনা পান। ১৫ বছর বয়স থেকে ঐ ক্লাবের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ২০১২ সালে সমারসেটের প্রথম খেলায় মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৬/২৭ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ঐ বছরের শেষদিকে আরও একটি জয়ে দলকে সহায়তা করেন। ডারহামের বিপক্ষে ৬/২৯ লাভ করেন ও সমারসেট দল আবারও রানার্স-আপ হয়। ঐ মৌসুমে ২৮.৪৫ গড়ে ৩৫ উইকেট দখল করেন। তবে, পরের মৌসুমগুলোয় কম সফল ছিলেন। সমারসেটের কোচ ডেভ নসওয়ার্দি সাদা বলের ক্রিকেটের প্রভাবে লাল-বলের খেলায় বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ডেভ নসওয়ার্দি’র পরিবর্তে কোচ হিসেবে নিযুক্ত ম্যাট মেনার্ড একই অভিমত ব্যক্ত করলে ২০১৫ সালের শেষে অবমুক্তি দেয়া হয়।

২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ছয় খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ২/২৩ লাভ করেন। ২০১২ সালে নিজস্ব দ্বিতীয় বিশ্ব টি২০ খেলায় অংশ নেন। তবে, আয়ারল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ওভারের জরিমানার কবলে পড়ে। দ্বিতীয়বার বোলিং করার সুযোগ পাননি। কিন্তু, ঐ বছর শেষে স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ২০১২ সালে আইসিসি বর্ষসেরা সহযোগী খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। এক বছর পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্ব টি২০ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের জয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রস্তাবিত ১০-দলের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা আয়োজনের ফলে আইরিশ ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে মনক্ষুন্ন হন।

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে অসাধারণ বোলিং করেন। মোম্বাসা স্পোর্টস ক্লাবে কেনিয়ার বিপক্ষে ৫/৩৭ ও ২০১১ সালে স্টরমন্টে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫/৭১ পান।

২০১৮-১৯ মৌসুমে আসগর আফগানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারত গমন করেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ১৫ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তানের বিপক্ষে অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ান, জেমস ক্যামেরন-ডাউ, জেমস ম্যাককলাম ও স্টুয়ার্ট পয়েন্টারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে ৩৯ ও ২৫ রান তুলেন। প্রতিপক্ষীয় রহমত শাহের ৯৮ ও ৭৬ রানের বদৌলতে তাঁর দল ৭ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।

এরপর ২০২২-২৩ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ১৬ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১১২ রান খরচায় একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২ ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ২৮০ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

Similar Posts

  • |

    এমজে গোপালন

    ৬ জুন, ১৯০৯ তারিখে মোরাপ্পাকামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। মাদ্রাজ ক্রিকেটের হর্তাকর্তা সিপি জনস্টোন সর্বপ্রথম তাঁর ক্রিকেট প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন। বার্মা শেলে তাঁকে চাকুরী প্রদানে সহায়তা করেন তিনি। এরফলে, নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ…

  • |

    চার্লি ফিনলাসন

    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ইংল্যান্ডের ক্যাম্বারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্ট ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    গুফি লরেন্স

    ৩১ মার্চ, ১৯৩২ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন ও তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে দীর্ঘতম খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন। সহজাত দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে প্রচণ্ড…

  • |

    জুনায়েদ সিদ্দিকী

    ৩০ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে থাকেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে বেশ উঁচুতে ব্যাট তুলে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। তামিম ইকবালের সাথে ব্যাটিংয়ে নেমে…

  • |

    বমন কুমার

    ২২ জুন, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার ছিলেন। ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। ছোটখাটো ও শীর্ণকায় গড়ন নিয়ে ঘরোয়া আসরে তারকা ক্রিকেটার ছিলেন।…

  • |

    গ্রেগ লাভরিজ

    ১৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ লেগ-ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ দারুণ ছিল। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর…