|

কার্টিস ক্যাম্ফার

২০ এপ্রিল, ১৯৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সেন্ট পিটার্সে অধ্যয়ন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। এক পর্যায়ে দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২০ সালের শুরুতে আইরিশ পাসপোর্টের সদ্ব্যবহারে অগ্রসর হন। আয়ারল্যান্ডে চলে যান ও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। ঐ বছরের শুরুতে আয়ারল্যান্ড উল্ভসের সাথে নামিবিয়া গমন করেন। দারুণ খেলে আয়ারল্যান্ডের ওডিআই দলে জায়গা করে নেন।

২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আইরিশ ক্রিকেটে লিনস্টার লাইটনিং ও দক্ষিণ আফ্রিকান নর্দার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, লায়ন্স কাবস ও মুনস্টার রেডসের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। শীর্ষ ছয়ে ব্যাটিংয়ে নামতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম মৌসুম লিনস্টার লাইটনিংয়ের সাথে খেলার পর ২০২১ সালে মুনস্টার রেডসে যোগ দেন। তবে, গোড়ালীর আঘাতের কারণে তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘকালীন উইকেট-রক্ষক নায়ল ও’ব্রায়ান ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রস্তুতিমূলক খেলায় তাঁর প্রতিভার সন্ধান পান।

২০২০ সাল থেকে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ৩০ জুলাই, ২০২০ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম দুই ইনিংসে অর্ধ-শতক হাঁকান। তন্মধ্যে, প্রথম খেলার চতুর্থ বলে টম ব্যান্টনকে ফেরৎ পাঠান। এরপূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলায় তাঁকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করেছিলেন। এছাড়াও, সিরিজের তৃতীয় খেলায় কয়েকটি উইকেট নিয়ে আয়ারল্যান্ডের খ্যাতনামা জয়ে অংশ নেন। এরপর থেকেই একদিনের দলে নিয়মিতভাবে খেলছেন।

২০২২-২৩ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র অধিনায়কত্বে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলতে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৪ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে বেন হোয়াইট, গ্রাহাম হিউম, হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার ও মারে কামিন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দলের মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।

এরপর, ২০২২-২৩ মৌসুমে অ্যান্ড্রু বালবির্নি’র নেতৃত্বে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে দারুণ খেলেন। ২৪ এপ্রিল, ২০২৩ তারিখ থেকে শুরু হওয়া গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে পল স্টার্লিংয়ের সাথে তিনিও শতক হাঁকিয়ে আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসে টেস্টে দলীয় সর্বোচ্চ ৪৯২ রানের ইনিংস দাঁড় করাতে ভূমিকা রাখেন। ২২৯ বল মোকাবেলায় ১৫টি চার ও দুইটি ছক্কার মারে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১১ রান তুলে প্রভাত জয়সুরিয়া’র বলে বিদেয় নেন। তবে, ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১০ রানে পরাজিত হয় এবং স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে রাবার জয় করে নেয়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে আবুধাবির টলারেন্স ওভালে অনুষ্ঠিত হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান দলের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল নিয়ে ২/১৩ লাভ করে দলের ৬ উইকেটের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ানের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয়লাভ করে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যান্ডি বালবির্নি’র নেতৃত্বাধীন আইরিশ দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টে তিনি ০ ও ৭১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মুশফিকুর রহিমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ২১৭ রানে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • |

    টেড মিউলি

    ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে টারানাকির হয়েরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    লাহিরু কুমারা

    ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শক্তসমর্থ ও মজবুত গড়নের অধিকারী। ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরেই নিজেকে সকলের সমক্ষে পরিচিতি…

  • |

    সেলিম দুরানি

    ১১ ডিসেম্বর, ১৯৩৪ তারিখে আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কাবুলে জন্মগ্রহণ করলেও ভারতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি ‘প্রিন্স সেলিম’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আফগানিস্তানী পাঠান হিসেবে চমৎকার চেহারার লম্বাটে গড়নের অধিকারী…

  • |

    জো হান্টার

    ৩ আগস্ট, ১৮৫৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের স্কারবোরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজ এলাকা ইয়র্কশায়ারের পক্ষে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। ১৮৭৮ সাল থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৮৭৮…

  • | |

    ক্রেগ ম্যাকডারমট

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের রেসভিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ‘বিলি’ ডাকনামে ভূষিত ক্রেগ ম্যাকডারমট ১.৯১ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    শাই হোপ

    ১০ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। কুইন্স কলেজ ও সেন্ট বেডেস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বেশ উচ্চ মানসম্পন্ন ক্রিকেটার। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…