|

সুরঙ্গা লকমল

১০ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে মাতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিনটি সংস্করণের প্রত্যেকটিতে অংশ নিচ্ছেন।

দীর্ঘ ছয় ফুটের অধিক উচ্চতাবিশিষ্ট গড়ন ও হাত উপরে তুলে বোলিং ভঙ্গীমায় অগ্রসর হন। পেস, বাউন্স ও সুইং সহযোগে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তবে, অধিক রান খরচের প্রবণতা বিদ্যমান। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, মাতারা স্পোর্টস ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জাফনা স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব বনাম নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলার সাথে নিজেকে জড়ান।

দেবারাবিবা সেন্ট্রাল কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। সেখানেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কর্তৃক নিযুক্ত ফাস্ট বোলিং কোচদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। এরপর, রিচমন্ড কলেজে বড়দের একাদশে খেলেন। ২০০৭ সালে তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের সাথে যুক্ত হন। সেখানেও কোচদের কাছে তাঁর উত্তরণ সবিশেষ নজর কাড়ে ও একাডেমি যুক্ত হতে সহায়তা করে। এরফলে, জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির পথ অনেকাংশেই সুগম হয়।

উভয় দলেই সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার ঘাটতির বিষয়টি ধরা পরে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কোচদের সাথে একাডেমিতে একত্রে কাজ করতে থাকেন। অবশেষে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন। ক্রমাগত সাফল্যের কারণে জাতীয় দলের সদস্য হন। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের কোচের দায়িত্বে নিয়োজিত চণ্ডিকা হাথুরুসিংহা’র নজরে পড়া তিনজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন।

২০০৯ সাল থেকে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। আট ওভারে ৫৮ রান খরচ করেন তিনি। এরফলে, হাম্বানতোতা জেলার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। দ্বিতীয় খেলায় সকলকে বিমোহিত করেন। শচীন তেন্ডুলকরবীরেন্দ্র শেহবাগের ন্যায় তারকা ক্রিকেটারদের উইকেট পান। কিন্তু, পরের খেলাগুলোয় তেমন সফলতা না পেলে ২০১০ সালের শুরুরদিকে পুণরায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান।

২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে শ্রীলঙ্কার ১১৪তম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেন। ২/৮৪ ও ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারার অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ডিসেম্বর, ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৎকালীন খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ৪/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। জো রুট, রবি বোপারা ও ইয়ন মর্গ্যানের ন্যায় বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেটারদেরকে বিদেয় করেছিলেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩১ রান তুলে উভয় ইনিংসে ওয়েন পার্নেলের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। জ্যঁ পল ডুমিনি’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্যাট কামিন্সের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

নতুন মাঠে টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট পান। বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার ক্রিস গেইলকে বিদেয় করে কপিল দেবইমরান খানের পর তৃতীয় বোলার হিসেবে এ কৃতিত্বের অধিকারী হন।

২০২০-২১ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২১ মার্চ, ২০২১ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৪৭ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, নক্রুমা বোনরের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২১-২২ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০২২ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/১২ ও ০/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শ্রেয়াস আয়ারের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ২৩৮ রানে জয়লাভ করে ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

Similar Posts

  • | | |

    হিমু অধিকারী

    ৩১ জুলাই, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এবং অত্যন্ত সম্মানীয় ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। এছাড়াও, সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডার হিসেবে তিনি ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বতা সম্পর্কে সতীর্থদেরকে অবহিত করে গেছেন। সামরিক শৃঙ্খলাকে উপজীব্য করে ঐ সময়ের ভারতীয় ক্রিকেটে…

  • | |

    প্রসপার উতসেয়া

    ২৬ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। সর্বদাই মিতব্যয়ী ধারালোমানের বোলিং সহযোগে অগ্রসর হতেন। হারারের শহরতলী এলাকা হাইফিল্ডের চিপেম্বেরে প্রাইমারি স্কুলে অধ্যয়নকালীন প্রথমবারের…

  • |

    কিথ দাবেঙ্গা

    ১৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও কিঞ্চিৎ শক্তিধর হলেও মাঠে বেশ দৌঁড়ুতে পারেন। বুলাওয়েভিত্তিক বাইনেস জুনিয়র ও মিল্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। লীগের খেলায় সুন্দর ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১…

  • |

    জন ম্যাকলারিন

    ২২ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টুয়ুং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯০৬-০৭ মৌসুম থেকে ১৯১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র…

  • | | |

    কিথ অ্যান্ড্রু

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনাক্রেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের…

  • | | |

    স্যামি উডস

    ১৩  এপ্রিল, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে ১৪ বছর বয়সে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। শিক্ষা গ্রহণের পর আর তিনি দেশে ফিরে যাননি।…