|

জ্যাক গ্রিগরি

১৪ আগস্ট, ১৮৯৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নর্থ সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

হিসাবরক্ষক চার্লস স্মিথ গ্রিগরি ও তদ্বীয় পত্নী জেসি অ্যানের ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় পুত্র ছিলেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে গ্রিগরি ভ্রাতারা দীর্ঘদিন খেলেছেন। ১৯০৭ থেকে ১৯১২ সময়কালে সিডনি চার্চ অব ইংল্যান্ড গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এ পর্যায়ে তিনি হার্ডলার হিসেবে নিজের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। জানুয়ারি, ১৯১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইম্পেরিয়াল ফোর্সে আর্টিলারি গানার হিসেবে তালিকাভুক্তকালীন নর্থ সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের নিচেরসারির খেলোয়াড় ছিলেন। ডিসেম্বরে সার্জেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পান। সেপ্টেম্বর, ১৯১৮ সালে সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট ও ডিসেম্বরে লেফট্যানেন্ট হন। দুইবার ফ্রান্স সফর করেন। ১৯১৯ সালে এআইএফ ক্রিকেট দলের সদস্য থেকে ইংল্যান্ড সফর করেন।

১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী। শক্ত, মজবুত গড়ন নিয়ে আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতেন। পেস ও বাউন্সের উপর নির্ভর করে সফলতা পেতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯২০ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৪টি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার মেইলি, নিপ পেলিও, হার্বি কলিন্স, জ্যাক রাইডার, জনি টেলর ও বার্ট ওল্ডফিল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ০ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৫৬ ও ৩/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৩৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে এইচডব্লিউ চ্যাপম্যানের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬/৭৭ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫১ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১১১ ও ২/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ০ ও ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১৯৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯২৬ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, টেস্টে মাত্র তিন উইকেট পেয়েছিলেন। এ সফরের পর খুব কমই ক্রিকেট খেলতেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি প্রথম ইনিংসে ৩/১৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এ পর্যায়ে হাঁটুতে গুরুতর চোট পান। এরফলে, কোন ইনিংসেই তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেনি। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৩১ গড়ে ৮৫ উইকেট ও ৩৭-এর অল্প কম গড়ে ১১৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১ গড়ে ৫০৪ উইকেট ও ৩৬ গড়ে ৫৬৬১ রান তুলেছিলেন। ১৯৩৬ সালে ওয়ারেন বার্ডসলি’র সাথে যৌথভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২৬ জুন, ১৯২৮ তারিখে ফাইলিস এথেল ফন অ্যালিন নাম্নী ১৯২৭ সালের মিস অস্ট্রেলিয়া বিজয়ীর সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। ১৯৫০-এর দশকের শুরুরদিক পর্যন্ত সময়কালে তাঁরা ওলারা এলাকায় বসবাস করতেন। এ দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল। ৭ আগস্ট, ১৯৭৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেগা এলাকায় ৭৭ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যু পরবর্তীকালে তাঁর সম্পদের মূল্যমান ছিল $৪৩,৩৮৬ মার্কিন ডলার।

Similar Posts

  • | |

    লুইস ট্যানক্রেড

    ৭ অক্টোবর, ১৮৭৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঊনবিংশ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকার কার্যকর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেন। অপরিসীম ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি বলকে ঠেকাতেন ও অন্যান্য খেলোয়াড়েরা রান সংগ্রহে তৎপর হতো। প্রায়শঃই শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানদের আদর্শস্থানীয় ছিলেন।…

  • | | |

    মাঙ্কি হর্নবি

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্রুক হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজ ক্রিকেটের ভিত্তি আনয়ণে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখেন। ‘দ্য বস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। সর্বদাই সামনের পায়ে ভর রেখে ড্রাইভ মারতেন কিংবা অফ-সাইডে বল ফেলতেন।…

  • |

    জন ইভান্স

    ১ মে, ১৮৮৯ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইনচেস্টারে অধ্যয়নের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি গল্ফ ও র‍্যাকেট খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮ থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    সেপ কিনিয়ার

    ২২ মে, ১৮৭১ তারিখে উইল্টশায়ারের পিকউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৮ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    রয় মিলার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত…

  • | |

    পার্থসারথী শর্মা

    ৫ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে রাজস্থানের আলওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে সম্যক পরিচিত লাভ করেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…