| |

লিজলে নাজেল

৬ মার্চ, ১৯০৫ তারিখে ভিক্টোরিয়া বেন্ডিগো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। উচ্চতার কারণে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে বিরাট প্রভাব ফেলতেন। দলটির পক্ষে ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে মাত্র দশটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ৩২.৮৭ গড়ে ৩০ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৩৫ পেয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে অস্ট্রেলীয় একাদশের সদস্যরূপে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে মেলবোর্নে অসাধারণ বোলিং করেন। খেলায় ৮/৩২ লাভ করলে প্রতিপক্ষ মাত্র ৬০ রানে গুটিয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে, তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।

১৯৩২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমের বডিলাইন সিরিজের প্রথম টেস্টে বলে সুইং আনলেও গতির ঝড় তুলতে পারেননি। ঐ মৌসুমে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টিম ওয়ালের সাথে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর হন। ওয়ালি হ্যামন্ডপতৌদির নবাবকে বিদেয় করে ২/১১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হয়। দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে রাখা হলেও ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় নিজেকে দূরে সড়িয়ে রাখেন। পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে আঘাতপ্রাপ্ত টিম ওয়ালের পরিবর্তে তাঁকে দলে রাখা হলেও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে খেলেননি। এরপর, আর তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদেয় নিলেও গ্রেড ক্রিকেটে অবিস্মরণীয় বোলার হিসেবেই রয়ে যান। মেলবোর্ন ক্লাবের পক্ষে খেলতেন। প্রায়শঃই যমজ ভ্রাতা ভার্ননের সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। দলটির পক্ষে ১৩৯ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে তাঁরা ছয়টি প্রিমিয়ারশীপের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব কমিটিতে যুক্ত ছিলেন।

২৩ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মর্নিংটন এলাকায় ৬৬ বছর ২৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর যমজ ভ্রাতা ভার্নন মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব ও ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলেছেন।

Similar Posts

  • |

    স্নাফি ব্রাউন

    ৮ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে বার্বাডোসের রবার্ট টেনান্ট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বার্বাডোসে জন্মগ্রহণ করলেও ছোটবেলা থেকেই গায়ানায় বসবাস করতে থাকেন। সেখানে ক্রিকেট খেলা শেখেন ও ক্রিকেট জীবনের অধিকাংশ সময় খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    টম ক্যান্ডল

    ২৪ আগস্ট, ১৮৫১ তারিখে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স থেকে শুরু করে বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে আসা সেরা অস্ট্রেলীয় বোলার ছিলেন। উইকেটের উভয় দিক দিয়েই নিখুঁত নিশানা বরাবর…

  • | | | |

    অ্যান্ডি পাইক্রফ্ট

    ৬ জুন, ১৯৫৬ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও উচ্চ মানসম্পন্ন ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের সহযোগী দেশ হিসেবে ক্রিকেটে নিজের…

  • |

    হাশিবুল হোসেন

    ৩ জুন, ১৯৭৭ তারিখে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘শান্ত’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সেনা কর্মকর্তার সন্তান ছিলেন। ঢাকা সেনানিবাসেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ছুটির দিনগুলোয় নগরীতে বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের সাথে খেলতেন। এভাবেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের সাথে…

  • |

    রন গন্ট

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ইয়র্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পাপ্পি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন…

  • |

    এবাদত হোসেন

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। তবে, স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে টেস্ট ক্রিকেটারে রূপান্তরিত করেন। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিমান বাহিনী…