|

সেপ কিনিয়ার

২২ মে, ১৮৭১ তারিখে উইল্টশায়ারের পিকউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৯৮ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়ারউইকশায়ারের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা লাভ করেন। ৩১২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান।

উইল্টশায়ারের পক্ষে খেলার পর ১৮৯৮ সালে সাধারণ শক্তিমত্তার দল মিডল্যান্ড কাউন্টিতে যুক্ত হন। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্ব পর্যন্ত ক্রমাগত রান সংগ্রহে অগ্রসর হয়েছিলেন। পঁচিশ বছর বয়সে এসে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা লাভের পর তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কিছুটা অনুকূল পরিবেশের সন্ধান পান। ধৈর্য্য সহকারে রক্ষণাত্মক ধাঁচ অবলম্বন ও প্রচলিত স্ট্রোক প্লে’র মাধ্যমে কাট ও অফ-ড্রাইভ মারতেন। মাঝে-মধ্যেই এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তভাবে আকর্ষণীয় খেলা উপহার দিতেন। সচরাচর, ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করতেন।

অনেকগুলো মৌসুম উইলি কুয়াইফের সাথে ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং গড়ের শীর্ষে অবস্থানের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ঊনিশ মৌসুমে প্রায় ৩৩ গড়ে ১৫৭২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯০৭ সালে লিচেস্টারে অনুষ্ঠিত খেলায় লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে উভয় ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছিলেন। অপরাজিত ৭০ ও অপরাজিত ৬৯ রান তুলেছিলেন। ১৯১১ সালে এফ. আর. ফস্টারের অধিনায়কত্বে ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে। এ পর্যায়ে ৪৪ গড়ে ১৪১৮ রান তুলে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন। বার্মিংহামে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ২৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। চিচেস্টারে সাসেক্সের বিপক্ষে খেলার উভয় ইনিংসে পৃথক শতক হাঁকান।

১৯১১ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফিল মিড, ফ্রাঙ্ক ফস্টার, জনি ডগলাস ও ইয়ং জ্যাক হার্নের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রবীণতম টেস্ট অভিষেকধারীর মর্যাদা লাভ করেন। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৪০ বছর ২১৬ দিন। ঐ টেস্টে সর্বমোট ৫২ রান তুলেন। খেলায় তিনি ২২ ও ৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৪৬ রানে পরাভূত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯১২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। গল্ফ খেলায় অংশগ্রহণ শেষে মোটর সাইকেল চালনাকালে বাড়ী ফেরার পথে দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। অতঃপর, ১৬ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামে ৫৭ বছর ১৫৬ দিন বয়সে তিনি নিহত হন।

Similar Posts

  • |

    ইএম গ্রেস

    ২৮ নভেম্বর, ১৮৪১ তারিখে ব্রিস্টলের ডাউনএন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘দ্য করোনার’ ডাকনামে পরিচিত ই. এম. গ্রেস ১৮৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটারদের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন। ড. হেনরি মিলস গ্রেস ও…

  • |

    আল শাহরিয়ার

    ২৩ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রোকন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা মেট্রোপলিসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে…

  • | |

    ইকবাল কাসিম

    ৬ আগস্ট, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে আম্পায়ার ও স্ট্যাম্পের মাঝখান দিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। আলতোভাবে বলকে পিচে ফেলতেন। মিতব্যয়ী বোলিং করলেও সূক্ষ্মতার সাথে…

  • | |

    এমএস ধোনি

    ৭ জুলাই, ১৯৮১ তারিখে বিহারের রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারত দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলেছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী এমএস ধোনি ‘এমএস’, ‘মাহি’, ‘এমএসডি’, ‘থালা’, ‘ক্যাপ্টেন কুল’ প্রভূতঃ ডাকনামে ভূষিত…

  • |

    ডিক স্পুনার

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৯ তারিখে কো ডারহামের থর্নবি-অন-টিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এক দশকের অধিক সময় দলে থেকে ১৩৮৫১ রান…

  • |

    তানজিম হাসান সাকিব

    ২০ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিলেট স্ট্রাইকার্স, লিজেন্ডস অব…