|

ইব্রাহিম মাকা

৫ মার্চ, ১৯২২ তারিখে দামানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

শুরুর দিনগুলোয় তাঁকে দারিদ্র্যতার সাথে লড়াই করতে হয়। তাঁর পিতা কার্গো জাহাজের সারেং হিসেবে মাসিক ₹১৫০ রূপীতে দশ সদস্যের পরিবারের জীবন কাটতো। এক পর্যায়ে এ পরিবারটি বোম্বের ক্রফোর্ড মার্কেটের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করতে থাকে। সেখানেই কিশোর ইব্রাহিম মাকা ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট হন। তাঁর গ্লাভসকর্ম বেশ পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ততার প্রতীক ছিল। দ্রুত পদ সঞ্চালনা ঘটাতে তৎপর থাকতেন।

১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গুজরাতের ব্যাটিংয়ের মান জবুথবু হবার ফলে কখনো কখনো তাঁকে শীর্ষসারিতে ব্যাটিং করতে নামতে হয়েছিল। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে পশ্চিমাঞ্চলের সদস্যরূপে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ৫৬ রান সংগ্রহের পাশাপাশি চারটি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন।

১৯৫২ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে চারজন উইকেট-রক্ষকের অন্যতম ছিলেন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। চিপকে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে তিনি একটি ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। তবে, টেস্টের অধিকাংশ সময় জুড়ে বৃষ্টি নামলে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

চারটি কারণে ইব্রাহিম মাকা দুইয়ের অধিক টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশের বয়সে অবস্থান করছিলেন। ব্যাট হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ১৫.৫৬ গড়ে ৬০৭ রান তুলতে পেরেছেন। প্রবীর সেন, নানা জোশী, মাধব মন্ত্রী ও নরেন তামানে’র ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পেড়ে উঠেননি। গুজরাত দলের পক্ষে খেললেও দলটি ঐ সময়ের ভারতের শীর্ষসারির ছিল না।

তবে, স্ট্যাম্পের পিছনে দূর্দান্ত ভূমিকা রাখতেন। পর্তুগাল অধিকৃত দামান থেকে চলে আসেন। পর্তুগীজ অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রথম টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। উইকেটের পিছনে চমৎকার ভূমিকা রাখলেও তাঁর ব্যাটিংয়ের মান বেশ নড়বড়ে ছিল।

এরপর, ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে প্রবীর সেনকে বাদ দেয়া হলে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরের সুযোগ পান। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। দুই রান সংগ্রহ করার পর লেস্টার কিংয়ের বলে তাঁর বামহাত ভেঙ্গে যায়। এরফলে, ঐ সফরে আর খেলতে পারেননি ও তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ২১ মৌসুমে ৩৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ৫৮ ক্যাচ ও ২৭ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে গুজরাতের দামানে ৭২ বছর ২৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    গ্লেন ম্যাকগ্রা

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাব্বো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেভিন ম্যাকগ্রা ও বেভার্লি ম্যাকগ্রা দম্পতির সন্তান। ডাব্বোয় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পরিবার ন্যারোমাইনে চলে যায়। সেখানে তিনি তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী…

  • |

    ক্রিস উকস

    ২ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি…

  • |

    হারিস সোহেল

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ ধৈর্য্যশীলতা নিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। তেমন উইকেট না পেলেও দারুণ বোলিং করে থাকেন। বলকে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে স্থবিরতা আনতে সচেষ্ট হন।…

  • | | | |

    রঘুরাম ভাট

    ১৬ এপ্রিল, ১৯৫৮ তারিখে মহীশুরের পুত্তুর এলাকায় জন্মগ্রহকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও আম্পায়ার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটকের…

  • | |

    ফিল শার্প

    ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শিপলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নরফোকের পক্ষে…

  • | |

    ডেভিড লরেন্স

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে গ্লুচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের তারকা ক্রিকেটারের…