১ এপ্রিল, ১৯০২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯৪১-৪২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হিন্দু ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। হিন্দু দলের সদস্যরূপে বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলারে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে জ্যাক রাইডারের নেতৃত্বাধীন প্রায় পূর্ণাঙ্গ শক্তিধর অস্ট্রলীয় একাদশের বিপক্ষে রঞ্জী ট্রফির উদ্বোধনী আসরের শিরোপাধারী দল হিসেবে বোম্বের সদস্যরূপে খেলেন। দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্নবিরতিকালে ৪৫৫/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারী দল। এর জবাবে প্রথম ইনিংসে ৫৯ রান করেন। স্বাগতিক দল ২৪১ রানে গুটিয়ে গেলে ফলো-অনের কবলে পড়ে। দলীয় সংগ্রহ ৪/১ হলে প্রথম ইনিংসের চেয়ে দুই ধাঁপ এগিয়ে তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এসএম কাদরী ৫ রানে বিদেয় নিলে তিনি ৩৭ রান তুলেছিলেন। চার্লি ম্যাকার্টনি দ্য হিন্দুতে লিখেন যে, প্রকৃতপক্ষে তাঁর তুলনায় অন্য কাউকে ভালো খেলতে দেখিনি। তাঁর পায়ের কারুকাজ ও স্ট্রোক যথার্থ মানসম্পন্ন ছিল। প্রত্যেক স্ট্রোকই সময় উপযোগী ও শক্তমানের ছিল। স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস সহযোগে দারুণ ভঙ্গীমায় খেলেন। সর্বোপরী চমৎকার খেলোয়াড়সূলভ মনোবৃত্তি বজায় রাখেন।
এ খেলার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই একই মাঠে অস্ট্রেলীয় একাদশ অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেয়। বিস্ময়করভাবে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। ফলশ্রুতিতে, চার্লি ম্যাকার্টনি মন্তব্য করেন যে, দলে তিনি অন্তর্ভুক্ত না হলেও বিশ্বজয়ী দলের সদস্যরূপে খেলার দাবীদার।
১৯৩৩ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বোম্বের জিমখানায় অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। বিজয় মার্চেন্ট, লালা অমরনাথ, লধা রামজী ও রুস্তমজী জামশেদজী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় ভারত দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩০-এর দশকের শুরুতে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। বোম্বে ক্রিকেটের শুরুরদিকের অন্যতম প্রথম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ী প্রথম অধিনায়ক ছিলেন। মাঠের বাইরে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ও মাঠে দর্শনীয় স্ট্রোকপ্লে মারতেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ভারতের পক্ষে একের অধিক টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। বিজয় মার্চেন্টকে গুরু হিসেবে মানতেন।
ভারতের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের দূর্লভ খেলা আয়োজনকালীন অংশ নেন। দুই দশকের অধিক সময় নিয়ে তিনি মাত্র ৬৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ছয়টি শতক সহযোগে ৩২ গড়ে ৩২৩১ রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, রঞ্জী ট্রফিতে তুলনামূলকভাবে ভালো করেন। ৪৩ গড়ে ১০৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বড় ধরনের ইনিংস খেলতে পারতেন না। প্রায়শঃই দূর্বল স্ট্রোকে উইকেট বিলিয়ে আসার প্রবণতা ছিল। বিজয় মার্চেন্ট তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন যে, বিজয় হাজারে’র ন্যায় ধৈর্য্য ও মনোযোগ প্রদর্শন করলে তিনি হয়তোবা যে-কোন ভারতীয় ক্রিকেটারের তুলনায় অধিক রান পেতেন। বিজয় মার্চেন্ট তাঁর দূর্বলতার কথাও সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। নিজস্ব কৌশলে প্রত্যেক বলই খেলতে চাইতেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় চাকুরী করেন। ডাকটিকিট সংগ্রাহক ও শৌখিন আলোকচিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। ব্যাংকে আসা খাম থেকে স্ট্যাম্প সংগ্রহের দিকে নজর রাখতেন। নিরামিশভোজী এবং বড় ধরনের কোট ও ধূতি পরিহিত অবস্থায় থাকতেন। এছাড়াও, জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। তবে, ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পূর্বে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। বোম্বে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও হিন্দু জিমখানার সহঃসভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। অবসর গ্রহণের পর বিলিয়ার্ডে চ্যাম্পিয়ন হন। এগারো বছর হিন্দু জিমখানায় অবিসংবাদিত তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। এক পর্যায়ে তরুণদের সুযোগ দিতে খেলা থেকে সড়ে দাড়ান। এছাড়াও, টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কান্তা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই সন্তান ছিল। পুত্র শশীকান্ত নাইরোবিতে ব্যবসায়ী এবং কন্যা পূর্ণিমা জাভেরি জনপ্রিয় গায়িকা ছিলেন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখের সকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের মধ্যকার সিডনি টেস্টের ধারাভাষ্য শ্রবণকালীন হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হন। অতঃপর ৬৫ বছর ৩০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। রঞ্জী ট্রফিতে দ্রুততম শতকের পুরস্কার তাঁর নামানুসারে রাখা হয়।
