৭ জুন, ১৮৯৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

যে-কোন অবস্থানে থেকে ধ্রুপদী শৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন। শীর্ণকায় গড়ন ও অদ্ভূত গোঁফের অধিকারী ছিলেন। কিংস্টনভিত্তিক উলমার্স বয়েজ স্কুলে ভর্তি হন। সাউথ লন্ডনের ডালউইচ কলেজে ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে জিলিগান ভ্রাতৃদ্বয়ের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্বেকার সময়ে ক্রিকেট খেলেন। সিভি আর্নল্ডের সাথে ৩৪৪ রানের জুটি গড়ে ডালউইচ রেকর্ড গড়েন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে লিওনেল টেনিসনের নেতৃত্বাধীন দল জ্যামাইকা সফরে আসলে তিনি ২০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এটিই সফররত দলের বিপক্ষে যে-কোন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটারের প্রথম দ্বি-শতরানের ইনিংস ছিল। ঐ মৌসুমে ১৫৬.৫০ গড়ে ৩১৩ রান তুলেন। পূর্ববর্তী মৌসুমে ৭৬.৫০ গড়ে ৩০৫ রান তুলেছিলেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ক্যারিবীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৭ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ভ্যালেন্স জাপের বলে বিদেয় নেন। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

দলকে নেতৃত্ব দেয়ার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে গৌরবের অধিকারী হন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। নিজের সেরা সময়ে সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেললেও এ সফরে দলের একমাত্র উইকেট-রক্ষক ছিলেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও ব্যাটিংয়ে পঞ্চম স্থানে ছিলেন।

এরপূর্বে ১৯২৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে দলের সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। আরও একবার দলকে নেতৃত্ব দেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রথম সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে উভয় ইনিংসে অর্ধ-শতক হাঁকান। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে সম্মানীয় এফ. এস. জি. ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। বর্ণাঢ্যময় ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছিলেন। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৬৬ ও ৯২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯২৭ সালে জ্যামাইকা ক্রিকেট বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কন্ট্রোল বোর্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সময়কালে ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ক্রিকেট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের টেস্ট মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছিলেন। এছাড়াও, এগ্রিকালচারাল সোসাইটিজ লোন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেছেন।

২৩ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ইংল্যান্ডের প্যাডিংটনে ৬৪ বছর ৪৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ১৯৮৮ সালে জ্যামাইকা পোস্টমাস্টার জেনারেল বার্বাডোস বাকলের সাথে তাঁর প্রতিকৃতিসম্বলিত £৩ পাউন্ড মূল্যমানের স্ট্যাম্প প্রকাশ করে।

Similar Posts

  • |

    টিচ ওয়েসলি

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম…

  • |

    শহীদ মাহমুদ

    ১৭ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন ও বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধন করতেন ও কার্যকর মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।…

  • |

    জহির খান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন ভারতীয় ফাস্ট বোলার ছিলেন। পুরনো বলকে ঘুরাতে পারতেন ও ইয়র্কারের সমন্বয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। ক্রিকেটের জন্যে প্রকৌশলী হতে…

  • | |

    কোশলা কুরুপ্পায়ারাচ্চি

    ১ নভেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট…

  • |

    স্যান্ডি বেল

    ১৫ এপ্রিল, ১৯০৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ইস্ট লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অপ্রত্যাশিতভাবে বাউন্স মারতেন। নেভিল কুইনকে সাথে নিয়ে ১৯২০-এর দশকের শেষদিক থেকে ১৯৩০-এর…

  • |

    মধুসূদন রেগে

    ১৮ মার্চ, ১৯২৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পানভেলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একগুঁয়েমিপূর্ণ মনোভাব…