| |

ফ্রেডি ক্যালথর্প

২৭ মে, ১৮৯২ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রেপটনে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন অসাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হতেন। কেমব্রিজে অধ্যয়নকালে নিজেকে আরও পরিপক্ক করে তুলেন। বার্মিংহামের অভিজাত গফ-ক্যালথর্প পরিবারের সন্তান ছিলেন। দৃষ্টিনন্দন না হলেও অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। অফ-সাইডে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কার্যকর মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর দৌঁড়ানোর ভঙ্গীমা কিছুটা জটিল প্রকৃতির ছিল। তবে, নতুন বল নিয়ে সেরা ব্যাটসম্যানের বিপক্ষেও বেশ গতি আনয়ণে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯১১ থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।

১৯২২ সালে এজবাস্টনের খেলায় তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। মাত্র ১৫ রানে হ্যাম্পশায়ারকে গুটিয়ে দেয়ার পর ফল-অনের পরও খেলায় হেরে যায় তাঁর দল। ঐদিন তিনি ওয়ারউইকশায়ারকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৪/৪ বোলিং করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সাথে যুক্ত ছিলেন। এরপর, খেলা শুরু হলে পুণরায় কেমব্রিজে যোগ দেন ও দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সংবাদ ডাকে দেরিতে আসার পর জানতে পারেন।

১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলোই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে দলকে সাথে নিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিল ভোসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৪ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২২ সালের কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই বোধ হয় ৫৬৩ রানে এগিয়ে যাবার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলো-অনে ফেলেননি। 

এরপর, ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হারম্যান গ্রিফিথের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এটিই তাঁর শেষ টেস্ট ও একমাত্র সিরিজে অংশ নিয়েছিলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৫ ও ৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে টমি স্কটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

সাধারণমানের দলকে ভবিষ্যতের ভিত এনে দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৩ শতক সহযোগে ২৪ গড়ে ১২৫৯৬ রান সংগ্রহসহ ৩০-এর কম গড়ে ৭৮২ উইকেট দখল করেছেন। সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫ সালে এমসিসি দলের নেতৃত্বে থেকে কেন্টের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলেন। এর একমাস পর দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৯ নভেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে সারের দ্য হোম গ্রীন এলাকায় মাত্র ৪৩ বছর ১৭৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ইউনুস আহমেদ

    ২০ অক্টোবর, ১৯৪৭ তারিখে ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স কিংবা বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, লাহোর ও পাকিস্তান…

  • |

    আগা জাহিদ

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। খাঁটি মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, লাহোর ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও,…

  • |

    ডেন ভিলাস

    ১০ জুন, ১৯৮৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিলি’ ডাকনামে ভূষিত ডেন ভিলাস ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড প্রিপাইরেটরিতে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশুনো করেন। প্রতিভাবান উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে…

  • | |

    এইডেন মার্করাম

    ৪ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই বছর বয়সে ক্রিকেট সরঞ্জাম উপহার পান। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। বাড়ীতে সর্বদাই ক্রিকেট বল নিয়ে খেলতেন। এরপর থেকে ক্রিকেট…

  • | | |

    জেরেমি কোনি

    ২১ জুন, ১৯৫২ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মজবুত গড়নের অল-রাউন্ডার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলে স্বল্প সময়ের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করলেও বেশ সফল ছিলেন। গড়পড়তা নিউজিল্যান্ডীয় বালকদের সাথে তাঁর শৈশবকালও তেমন বৈচিত্র্যময় ছিল না। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে রাগবি খেলায় জড়িয়ে…

  • | |

    কুইন্টন ডি কক

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে গটেংয়ের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটান। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজস্ব ২১তম জন্মদিনের পূর্বেই অনেক ক্রিকেটারের তুলনায় খেলোয়াড়ী জীবনে অনেকগুলো অর্জনের সাথে নিজেকে জড়িয়েছেন। শুধুমাত্র স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ…