|

অনিল দলপত

২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

জাতীয় দল থেকে ওয়াসিম বারি’র অবসর গ্রহণের পর বেশ কয়েকজন উইকেট-রক্ষকের দাবীদারের অন্যতম ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে বব উইলিসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। রমিজ রাজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, প্রথম হিন্দু ক্রিকেটার হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, সাত নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে ১২ ও অপরাজিত ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে সেলিম মালিকের সাথে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যালান ল্যাম্বকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সংগ্রহ ৪০/৬ থাকাকালে মাঠে নামেন। আব্দুল কাদিরের স্পিন বল যথাযথভাবে সামলে নেন ও পাকিস্তানের তিন উইকেটের বিজয়ে সম্যক ভূমিকা রাখেন। এরফলে, নিজ দেশে তেরোবার প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। বিস্ময়করভাবে ফয়সালাবাদ ও লাহোর টেস্টে তাঁকে আরও নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়েছিল।

ঐ বছরের শেষদিকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে পাকিস্তান সফরে তিন-টেস্টের সিরিজ খেলতে আসা জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। প্রায়শঃই তাঁকে মাঠে নামতে হয়নি। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। এ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা ৫২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, এ ইনিংসের পূর্বে ও পরে তাঁর রান সংগ্রহ বেশ তথৈবাচৈ ছিল। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

জানুয়ারি, ১৯৮৫ সালে ফিরতি সফরেও নিষ্প্রভ ছিলেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড যান। কেবলমাত্র ওডিআইয়ে অপরাজিত ২১ ও ৩৭ রান তুলেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৫টি ওডিআইয়ে এগুলোই তাঁর দুই অঙ্কের রান ছিল। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৬ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসামান্য বোলিংশৈলী সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ২ উইকেটে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ২৫টি ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। পূর্বেকার ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমের ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ৬৭ ডিসমিসাল ঘটিয়ে তৎকালীন রেকর্ড গড়েন। অক্টোবর, ১৯৮৬ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন দলে থেকে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুণরায় দলে ফিরে আসেন। এরপর আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

ক্রিকেটপ্রেমী ও পাকিস্তান হিন্দু ক্রিকেট ক্লাবের স্বত্ত্বাধিকারী দলপত সোনাভারিয়ার সন্তান ছিলেন। পিতার ক্লাবে অংশ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনের জন্যে দেড় দশক পর ইমরান খানকে দোষারোপ করেন। ২০০২ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অনুল্লেখ্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে তাঁকে প্রস্তাবনা দেয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখান করেন। দানিশ কানেরিয়া সম্পর্কে তাঁর কাকাতো ভাই।

Similar Posts

  • |

    গাই হুইটল

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে মনিকাল্যান্ডের চিপিঞ্জ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কার্যকর মারমুখী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ব্যাটিং উদ্বোধন কিংবা নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। কার্যকরী রান সংগ্রহসহ শতক হাঁকিয়েছেন। এছাড়াও সুইং বোলিং করতে পারতেন। পাশাপাশি, বাউন্ডারি সীমানা বরাবর…

  • | |

    হ্যারি ট্রট

    ৫ আগস্ট, ১৮৬৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কলিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিল্ডারদেরকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনে পরিবর্তন ও বোলারদের বিশ্রামের বিষয়ে পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, খেলার গতিধারা পরিবর্তনে অনেকাংশেই এগুলো বিরাট ভূমিকা রাখে।…

  • |

    জাকির হাসান

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চিটাগং ভাইকিংস, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, রাজশাহী কিংস, গাজী গ্রুপ…

  • | |

    স্টুয়ার্ট ব্রড

    ২৪ জুন, ১৯৮৬ তারিখে নটিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ব্রডি’ ডাকনামে পরিচিত স্টুয়ার্ট ব্রড ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। ওকহাম স্কুলে…

  • |

    ওয়াহাব রিয়াজ

    ২৮ জুন, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ভিকি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার। প্রায়শঃই ভালো-মন্দ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ফুরফুরে মেজাজে থাকলে তিনি দুর্নিবার, অন্যদিকে, ধারাবাহিকতার অভাবে…

  • |

    কেএস রণজিৎসিংজী

    ১০ সেপ্টেম্বর, ১৮৭২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সরোদর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো-বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজকুমার কলেজে অধ্যয়ন করেন। তাঁর পরিবার শাসক পরিবারের সাথে যুক্ত ছিল। নয়ানগরের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত হবার প্রশ্নে তিনি নির্বাচিত করা…