|

কর্ষণ ঘাবরী

২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বিদ্যালয় জীবনে মূলতঃ স্পিন বোলিং করতেন। একদা অধিনায়ক আঘাত পেলে কোচ তাঁকে নতুন বল নিয়ে বোলিং করার পরামর্শ দেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলাটিতে তিনি পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ও সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৭৪ থেকে ১৯৮১ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৩৯ টেস্ট ও ১৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে নেন। অংশুমান গায়কোয়াড়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৮ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮৫ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৬ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।

ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ সালে বোম্বেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টেস্টে খ্যাতনামা ভারতীয় স্পিন ত্রি-রত্নের অন্যতম ও অধিনায়ক বিষেন সিং বেদী, বি. এস. চন্দ্রশেখরই.এ.এস. প্রসন্ন দ্বিতীয় ইনিংসে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। সুনীল গাভাস্কারকে দল পরিচালনা করার সুযোগ দিয়ে বিষেন সিং বেদী মাঠ ত্যাগ করলে তিনি কর্ষণ ঘাবরীকে বোলিং সুযোগ দেন। প্রত্যাশার চেয়েও অধিক ভালো করেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক টনি গ্রেগ, ডেরেক র‍্যান্ডল, অ্যালান নটের উইকেটসহ পাঁচ-উইকেট পান। ২১৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত ইংরেজ দল ১৫২/৭ তুলে খেলাটি ড্র করতে বাধ্য হয়। মাঠে ফিরে বিষেন সিং বেদী স্কোরবোর্ড লক্ষ্য করেন ও দ্বিতীয় নতুন বলে উইকেট লাভের চিন্তাধারা করেন। তাঁর বামহাতের স্পিন বোলিংয়ে পাঁচ-উইকেট পাবার বিষয়ে অধিনায়ক বিস্ময় প্রকাশ করেন।

১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেরা ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। এছাড়াও, নিচেরসারিতে দূর্দান্ত ব্যাটিং করতেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে সিডনিতে ৬৪ রান করেন। এরপর, নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোম্বে টেস্টে ৮৬ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। এগুলো বাদে প্রায়শঃই দলের নিশ্চিত সঙ্কটকালীন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অবস্থায় নিচেরসারিতে প্রতিরক্ষাব্যূহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেন। এ সফলতাপ্রাপ্তিগুলো অনেকাংশেই ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজনকালীন হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯৮০-৮১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গ্রেগ চ্যাপেল, লেন পাস্কো ও ডেনিস লিলি প্রমূখদের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। চূড়ান্ত টেস্টে দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এরপর থেকে তাঁর খেলায় দ্রুত ছন্দপতন ঘটতে শুরু করে। খুব শীঘ্রই দল থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ১৭ রান সংগ্রহসহ ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে হ্যামিল্টনে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন।

কেবলমাত্র পেস বোলিংয়ের মাধ্যমে ভারতীয় বোলার হিসেবে ১০৯ উইকেট দখল করেন। ৩০-এর কম গড়ে রান খরচ করেছেন। ২০-এর অধিক গড়ে রান পেয়ে অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন কপিল দেবের সাথে সফলতার সাথে বোলিং উদ্বোধন করতেন। বামহাতে স্পিন বোলিং করে এক টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। গতির দিক দিয়ে কপিল দেবের সমকক্ষ না হলেও তাঁর বামহাতের পেস বোলিং বেশ চটপটে ছিল। তাঁর দলীয় সঙ্গীরা কখনো কখনো বাউন্সারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেন, তবে শর্ট বলগুলো কিছুটা বেখাপ্পা ধরনের ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে কখনোবা স্লো লেফট-আর্ম স্পিন বোলিং করতেন।

Similar Posts

  • |

    জেফ ডুজন

    ২৮ মে, ১৯৫৬ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ফাস্ট বোলারদের বল অসাধারণ ভঙ্গীমায় গ্লাভস বন্দী করতেন। কখনোবা লেগ-সাইডের বলগুলো একহাতে আটকিয়েছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেও সফল ছিলেন। দলের সঙ্কটময় মুহূর্তে ত্রাণকর্তা হিসেবে…

  • |

    কাইল জার্ভিস

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও পেশীবহুল শারীরিক গড়নের অধিকারী। শুরুতে এবড়ো-থেবড়ো পেস বোলিং করলেও পরবর্তীতে শীর্ষ প্রতিপক্ষীয়দের বিপক্ষে বেশ ধ্বংসাত্মক বোলিং উপহার দেন। জিম্বাবুয়ের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ম্যালকম…

  • |

    রেজিনাল্ড অ্যালেন

    ২ জুলাই, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্লেব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত দলটির পক্ষে খেলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী…

  • | | |

    জাভেদ মিয়াঁদাদ

    ১২ জুন, ১৯৫৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। সোজা-সাপ্টা, ক্রেতাদূরস্ত, বিচক্ষণ ও হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতা নিয়ে গড়ার ফলে খুব সহজেই স্বতন্ত্র…

  • |

    ফ্রান্সিস ওয়াল্টার্স

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৬০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইস্ট মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। ড্রাইভ ও কাটের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ব্যাটিং উপযোগী পিচে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনভাবে খেলতেন। ১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে…

  • |

    আরিফ বাট

    ১৭ মে, ১৯৪৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর ও পাকিস্তান রেলওয়েজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…