৩০ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে ইংল্যান্ডের হিয়ারফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সচরাচর ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী খেলোয়াড় না হলেও বেশ গুরুত্বতার দাবীদার ছিলেন। প্রাদেশিক পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। স্কয়ার অঞ্চলের দিকে মুখ রেখে রান সংগ্রহে তৎপর হতেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে বেশ কৃপণতার সাথে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অকল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনসহ অকল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য তিনি। ১৯৯১ সালে অকল্যান্ড মেডিক্যাল স্কুল থেকে স্নাতকধারী হন। এরপর থেকে স্বাস্থ্যসেবায় জড়িয়ে রয়েছেন। ব্রেইঞ্জ ইন্সট্রুম্যান্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। ২০০৩ সালে ওতাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল পরামর্শক বোর্ডে কাজ করেন।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পুরো আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে কোন শূন্য রানের সন্ধান পাননি। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মাইকেল ওয়েন্স ও ক্রিস হ্যারিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৭ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রোশন মহানামা’র অসাধারণ শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজিন্দ্র ধনরাজকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা বোলিং ছিল ২/৮১। খেলায় তিনি ০/৭৯ ও ৩/৩০ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৬ ও ৩২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। জুন, ২০০৭ সালে মার্টিন স্নেডেনের পরিবর্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরিবারকে অধিকতর সময় ব্যয় করার বিষয়কে ঘিরে অব্যহতি নেন। জন্মসনদে তিনি থমাস জাস্টিন কল্ডওয়েল ভন নামে পরিচিত হয়ে আছেন। ক্রিকেটের বাইরে চিকিৎসক তিনি।
