| |

বিজয় দাহিয়া

১০ মে, ১৯৭৩ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান-উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে অগ্রসর হতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দৃষ্টিনন্দন খেলা উপহারের তুলনায় নিজেকে গুটিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি মারকুটে ব্যাটিং করতেন না কিংবা নিজস্ব ভঙ্গীমায়ও তেমন দর্শনীয় খেলতেন না। তাসত্ত্বেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে লুধিয়ানায় পাঞ্জাবের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। কিছু সময় দিল্লি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের পক্ষে দিলীপ ও দেওধর ট্রফিতে দলের প্রথম শিরোপা বিজয়ে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও, বোর্ড সভাপতি একাদশের সদস্যরূপে উইলস ট্রফিতে দলকে শিরোপা এনে দেন।

২০০০ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ১৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে দল নির্বাচকমণ্ডলী ১৬-মাসের ব্যবধানে পাঁচজন উইকেট-রক্ষকের অন্যতম হিসেবে তাঁকে ভারত দলে রাখে। ৩ অক্টোবর, ২০০০ তারিখে নাইরোবির জিমখানায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক কেনিয়ার বিপক্ষে যুবরাজ সিংজহির খানের সাথে একযোগে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তাঁরা এক দশকের অধিক ভারতের পক্ষে খেললেও তিনি তেমন কোন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, কার্যকর উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থেকেও ব্যাট হাতে নিজের সেরাটা প্রদর্শনে সোচ্চার ছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে সংক্ষিপ্ত টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি।

২০০০-০১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই সিরিজে টেস্টগুলোয় অংশ নেন। নিজ দেশে হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে নিজ শহর দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র একবারই ব্যাটিং করার সুযোগ পান। ৫ বল মোকাবেলার পর ভারত দল ইনিংস ঘোষণা করেছিল। খেলায় জবাগল শ্রীনাথের অনিন্দ্যসুন্দর বোলিং নৈপুণ্যের কারণে খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে জয় পায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৫ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ২ রানে অপরাজিত ছিলেন ও তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অবশ্য ওডিআইয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। তন্মধ্যে, ব্যাঙ্গালোরে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৯ বল থেকে ৫১ রান তুলেছিলেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে তাঁর স্ট্রাইক রেট ৮১ ছিল ও গ্রহণযোগ্যতার দাবীদার। এছাড়াও, ১৯ ওডিআই থেকে ২৪ ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৪ গড়ে ৩৫৩২ রান তুলেছেন। পাশাপাশি ২১৬টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে খেলার জগৎ থেকে অবসর নেন। পরের মৌসুমে দিল্লি দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ঐ মৌসুমে গৌতম গম্ভীরের অধিনায়কত্বে দিল্লি দল ১৯৯১-৯২ মৌসুমে ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো রঞ্জী ট্রফির শিরোপা জয় করে। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর দিল্লি দলে চুক্তি নবায়ণ না করলে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সহকারী কোচ হিসেবে মনোনীত হন। তবে, ২০১৪-১৫ মৌসুমে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আনা সত্ত্বেও কোচ হিসেবে পুণরায় নিযুক্তি পান।

Similar Posts

  • |

    শেন থমসন

    ২৭ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ওয়াইকাটোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে স্লো মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একই ধারা প্রবাহমান রাখতে সমর্থ হন। কিন্তু, দীর্ঘ…

  • |

    আসাদ শফিক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড,…

  • |

    দিলরুয়ান পেরেরা

    ২২ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে পানাদুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ধ্রুপদীশৈলীর অল-রাউন্ডার। বলে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও বেশ বৈচিত্র্যতা আনয়ণসহ নিখুঁততা আনতে পারতেন। সহজাত ও স্বাবলীল ভঙ্গীমায় শ্রীলঙ্কার প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    হ্যারি বয়েল

    ১০ ডিসেম্বর, ১৮৪৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ড্যানিয়েল বয়সে ও শার্লত দম্পতির সন্তান। বোলিংকালে দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাব পোষণ করতেন। ১৮৭১-৭২ মৌসুম…

  • | | |

    বিজয় মেহরা

    ১২ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সাফল্য না পেলেও শারীরিক সক্ষমতা ব্যতিরেকে মনেপ্রাণে যে-কোন পরিবেশে সংগ্রাম করে গেছেন। খেলোয়াড়ী…

  • |

    স্যামি কার্টার

    ১৫ মার্চ, ১৮৭৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থোরাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের সাথে যুক্ত ছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, সমসাময়িক অনেকে স্ট্যাম্পের কাছে থাকলেও তিনি তা করতেন না। ব্যাটিংকালে কাঁধের উপর দিয়ে স্কুপ করতেন। ব্যাটিংয়ে…