১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিশ্রুতিশীল অল-রাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলতে থাকেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। মারকুটে ব্যাটিং করে থাকেন ও কার্যকরী উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় তিনি।
২০১০ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড, ওতাগো ও ওয়েলিংটন এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, এসেক্স ও কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, এডমন্টন রয়্যালস, গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, নর্থ আইল্যান্ড, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও ওয়েলস ফায়ার দলের পক্ষে খেলেছেন। ২০ বছর বয়সে ২৯ মার্চ, ২০১০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্যান্টারবারি বনাম অকল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১০ সালে অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর ২০১১ সালে ওতাগোয় চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন ও বেশ সফল হন। লিস্ট-এ ক্রিকেটের আটটি খেলায় অংশ নিয়ে দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৫১.২৫ গড়ে ২০৫ রান তুলেন। এছাড়াও, ২৩ গড়ে ১৪ উইকেট দখল করেছিলেন। ঐ মৌসুমে ওতাগোর পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৫/৪৪ লাভ করেন।
২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে ডারবানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি২০আইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এরপর, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে পার্লে একই দলের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথম খেলেন। প্রথম ১৪ ওডিআই শেষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ও সেরা বোলিং ৪/৪২ করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। টম ল্যাথামের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে টেস্টে ১৩৭* রানের নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, অভিষেকে অষ্টম সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ১/৬২ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ত্রি-শতক স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
এরপর, নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে আবারও শতকের সন্ধান পান। এরফলে, প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় হিসেবে প্রথম দুই টেস্ট থেকে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন।
২০১৪ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৮ জুন, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০৭ ও ২০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৪ ও ০/৯ লাভ করেন। তবে, অভিষেকধারী মার্ক ক্রেগের অনবদ্য বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৮৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরফলে, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে নিউজিল্যান্ড দল দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভে সমর্থ হয়।
২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে কেসি সাঙ্গাকারাকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১২। খেলায় তিনি ৩/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে নুয়ান প্রদীপের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেন উইলিয়ামসনের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীতে স্বাগতিকরা ১৯৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান। ৮ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৫৩ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২১ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪১ ও ০/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
