৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ের তৌমারুনুই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। বলে পেস না থাকলেও ক্রমাগত নিখুঁতভাব বজায় রেখেছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁর বোলিংয়ে ছন্দপতন ঘটলে তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয় ও ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে আরও ফাস্ট বোলারের উত্থান ঘটলে তাঁরা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১৫ টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দলের তিনটি টেস্ট জয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১৬ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৩৫ ওভারে দল ১৯৮/৮ তুলে ও খেলাটি শেষ বল অবদি গড়ায়। সফরকারী দল খেলায় ১ রানের নাটকীয় জয় পায়। তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি ও বল হাতে নিয়ে নিখুঁতভাব ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১/২৯ লাভ করেন। অধিনায়ক মুশতাক মোহাম্মদের উইকেট পান। চতুর্থ উইকেটে মুশতাক মোহাম্মদ ও জাভেদ মিয়াঁদাদের জুটি ভেঙ্গে দিয়ে দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন।
এরপর, একই মৌসুমে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ভারত সফরে যান। ১৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হন। কানপুরে অনুষ্ঠিত তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ড্রয়ে পরিণত হওয়া ঐ টেস্টে তিনি কেবলমাত্র অশোক মানকড়ের উইকেট লাভ করেছিলেন। ১/৬৯ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শ্রীনিবাসরাঘবন বেঙ্কটরাঘবনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজ দেশে প্রথম সিরিজ জয়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এরফলে, ৫০ বছর পর নিউজিল্যান্ড দল তাদের প্রথম জয়ের সন্ধান পায়। অপরদিকে, এ সিরিজ পরাজয়ের পর ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আর কোন সিরিজে পরাজিত হয়নি। এ সিরিজে তিনি ২০.৬১ গড়ে ১৮ উইকেট দখল করেছিলেন।
৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে ডেসমন্ড হেইন্সের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন ব্যক্তিগত সেরা ছিল ২/২৬। খেলায় তিনি ২/২৬ ও ৩/৫৬ লাভ করেন। এছাড়াও, ০ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১ উইকেটে নাটকীয়ভাবে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সিইএইচ ক্রফ্টকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৫৭। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সাফল্যকে আবারও ছাঁপিয়ে যান। সিএইচ লয়েডকে বিদেয় করে পুণরায় সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/৭১। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৪/৭১ ও ৬/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে জোয়েল গার্নারের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৪ মে, ১৯৮৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। বল হাতে নিয়ে ২/৮৭ ও ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যালকম মার্শালের দাপটে খেলায় তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়। পাশাপাশি, এ সফরে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে তিনি ০/১০৪ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যালান বর্ডারের জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ পর্যায়ে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, পাঁচটি লিস্ট-এ ও ছয়টি টি২০ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন।
