|

রে রবিনসন

২৬ মার্চ, ১৯১৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্টকটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

স্টকটন দলে খেলতেন ও স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে তৎপর হন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে তৎকালীন সর্বোচ্চ ১৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে দ্বিতীয়ার্ধ্বে সিডনিভিত্তিক গর্ডন ক্লাবে যোগ দেন। খুব শীঘ্রই এনএসডব্লিউতে চলে যান। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওটাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসে খেলার অল্প কিছুদিন পর জাতীয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।

১৯৩৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৩০-এর দশকে ৩৪ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ৭জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২২ বছর বয়সে ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ব্যাডকক, ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড ও মরিস সিভার্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, স্টকবর্নে জন্মগ্রহণকারী একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। এ পর্যায়ে বিল ও’রিলি, স্ট্যান ম্যাককাবে ও ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে একত্রে খেলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল পরাজয়ের কবলে পড়ে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি খুব কমই ভূমিকা রেখেছিলেন। মাত্র ৫ রান সংগ্রহ করেন ও বোলিং করার সুযোগ পাননি। ২ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল ভোসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওতাগোর পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে খেলে চার শতক সহযোগে ৩১.৭০ গড়ে ২৪৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৩ রান তুলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩৭.৫৯ গড়ে ৪৪ উইকেট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি ২৪ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তাঁর ব্যাটিংয়ের দৃষ্টিনান্দনিকতা অনেকাংশে ‘গ্রেট অ্যালান কিপাক্সের’ অনুরূপ ছিল। অনেক বছর পর চ্যানেল নাইনের ‘ব্র্যাডম্যান স্পেশালে’ রে মার্টিন দলের কিংবা প্রতিপক্ষের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে কাকে বেছে নেবেন জিজ্ঞেস করলে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান মন্তব্য করেন যে, ‘আপনি যদি রে রবিনসনের ব্যাটিং দেখতেন তাহলে আমাকে খুব শীঘ্রই ভুলে যেতেন।’

১০ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিজ শহর স্টকটনে ৫১ বছর ১৩৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    অজিত পাই

    ২৮ এপ্রিল, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। কেবলমাত্র সিমার হবার সুবাদেই তিনি তাঁর সময়কালে ভারত দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫ গড়ে ৮৫ উইকেট ও ১১ গড়ে ৩৯২…

  • | |

    শাফকাত রানা

    ১০ আগস্ট, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সিমলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অত্যন্ত চমৎকার ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন। ড্রাইভ ও কাটের দিকে অধিক সফলতা পেয়েছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • | |

    বিজয় যাদব

    ১৪ মার্চ, ১৯৬৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গণ্ডা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইকেট-রক্ষণে তাঁর সহজাত দক্ষতা ছিল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে রঞ্জী…

  • | |

    ইকবাল কাসিম

    ৬ আগস্ট, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে আম্পায়ার ও স্ট্যাম্পের মাঝখান দিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। আলতোভাবে বলকে পিচে ফেলতেন। মিতব্যয়ী বোলিং করলেও সূক্ষ্মতার সাথে…

  • | |

    টেরি অল্ডারম্যান

    ১২ জুন, ১৯৫৬ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। মিডিয়াম পেসার হিসেবে দৃশ্যতঃ ইংল্যান্ডের মাটিতে দূর্দমনীয় ছিলেন। সর্বদাই মৃদু হাসি নিয়ে বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। যতক্ষণ বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত…

  • | |

    লর্ড হক

    ১৬ আগস্ট, ১৮৬০ তারিখে লিঙ্কনশায়ারের উইলিংহাম রেক্টরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৮৮১ সালের শরৎকালে কেমব্রিজের অধীন মাগদালেন কলেজে ভর্তি হন। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট একাদশ দলে অন্তর্ভুক্ত হন।…