|

স্যাম কুক, ১৯৯৭

৪ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে এসেক্সের চেমসফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে এসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই ব্রেভস, দিল্লি বুলস, এসেক্স দ্বিতীয় একাদশ, জোবার্গ সুপার কিংস, লাফবোরা এমসিসিইউ, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব, ট্রেন্ট রকেটসের পক্ষে খেলেছেন। ৩১ মার্চ, ২০১৬ তারিখে ওভালে সারে বনাম লাফবোরা এমসিসিইউ’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

এসেক্সের ‘লিটল শেফ’ নামে পরিচিত স্যাম কুক ২০১৭ সালের শিরোপা বিজয়কালে দ্রুত উত্থান ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেটার থেকে প্রথম একাদশে খেলেন। চ্যাম্পিয়নশীপে নিজের প্রথম চার খেলা থেকে দুইবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। দূর্দান্ত খেলে ঐ মৌসুম শেষ করেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে তিনি নিয়মিতভাবে জ্যামি পোর্টারের সাথে নতুন বল নিয়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনায় অগ্রসর হন। বলের উপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণসহ স্লিপারি, মিডিয়াম-ফাস্ট পেস সহযোগে বলকে উভয় দিক দিয়ে ঘুরানোয় স্বীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

খুব দ্রুত ২০১৯ সালে আরেকটি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি একই বছর এসেক্সের প্রথম টি২০ ব্লাস্ট শিরোপা বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ২০২০ সালে বব উইলিস ট্রফি লাভ করে আরও একবার সামনে চলে আসেন। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১৪.৪৩ গড়ে ৫০ উইকেট পান। পরের বছর ১৬.২৩ গড়ে উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, সাদা-বলের ক্রিকেটেও তাঁর দক্ষতা লক্ষ্যণীয় ছিল। মেন্স হান্ড্রেডের চূড়ান্ত খেলায় ৪/১৮ লাভ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন ও ট্রেন্ট রকেটসের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। লায়ন্সেও খেলার সুযোগ পান। ৮০ মাইল গতিবেগে বোলিং করে থাকেন। তবে, পর্যাপ্ত পেসের অভাব সত্ত্বেও একই মানের পোর্টারের সাথে নিজেকে একই অবস্থানে রেখেছেন।

লাফবোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সেখানে ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশুনো করেছেন। এমসিসিইউ দলে খেলার পর এসেক্সের সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে খেলেন। শেষ অধিবেশনে দূর্দান্ত খেলে ৫/১৮ লাভ করে ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা এনে দেন। এজিয়াস বোলে হ্যাম্পশায়ারকে ৭৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে দলকে ১০৮ রানের জয় নিশ্চিত করেন।

২০১৯ সালে ২১.০৩ গড়ে ৩২ উইকেট নিয়ে এসেক্সের আবারও শিরোপা লাভে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, টি২০ ফাইনালস ডেতেও অংশ নেন। তখনো লাল-বলের ক্রিকেটে তাঁর আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। আগস্টে ক্যান্টারবারির খেলায় ব্যক্তিগত সেরা ৭/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি খেলায় তিনি প্রথমবারের মতো দশ উইকেট দখল করে কেন্টকে ৪০ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। এরফলে, এসেক্স দল খেলায় ফিরে এসে ও শিরোপা ঘরে তুলে নেয়।

১ মে, ২০২৫ তারিখে গ্রীষ্মের প্রথম টেস্ট খেলতে এসেক্সের ব্যাটসম্যান জর্ডান কক্সের সাথে তাঁকে ১৩-সদস্যের দলে রাখা হয়। অতঃপর, ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০ মে, ২০২৫ তারিখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। লুক রাইটের অভিমত, ‘তিনি শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের অন্যতম ভীতিদায়ক বোলার।’

২০২৫ সালে নিজ দেশে ক্রেগ আরভিনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ মে, ২০২৫ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১/৭২ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। তবে, শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে স্বাগতিকরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই করায়ত্ত্ব করে নেয়। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, জিম্বাবুয়ে দলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে পরাজিত হয় ও একটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

Similar Posts

  • |

    রমেশ দিবেচা

    ১৮ অক্টোবর, ১৯২৭ তারিখে মহারাষ্ট্রের কডাকডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সুইং ও অফ-ব্রেকের মাঝামাঝি প্রকৃতির বোলিং করতেন। ২৫ গড়ে ২১৭টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেছেন। অন্যদিকে, ২০-এর গড়ে…

  • | |

    ব্রায়ান হ্যাস্টিংস

    ২৩ মার্চ, ১৯৪০ তারিখে ওয়েলিংটনের আইল্যান্ড বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    অমর সিং

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আলফ্রেড হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৯-৪০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    রঙ্গনা হেরাথ

    ১৯ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে কুরুনেগালায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণসহ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস…

  • | |

    সালাহউদ্দীন

    ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বন্দর নগরী করাচীতে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ধ্রুপদী ঢংয়ে ডানহাতে অপূর্ব ড্রাইভে খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও, ধীরলয়ের অফ-ব্রেক বোলিংয়ের…

  • | | |

    আলফ্রেড শ’

    ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের বার্টন জয়েস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বর, ১৮৬৩ সালে নটস কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বারের মতো কোল্টস বাছাইয়ের আয়োজন করলে তিনি কোল্টসের পক্ষে খেলে ৭/১৪ লাভ করেন। এরপর, লর্ডসে এমসিসি বনাম…