২৭ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের ক্যাটফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ক্রিকেটপ্রিয় বিখ্যাত হার্ন পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৮৮৯ সালে পরিবারের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসিত হন। পিতা ফ্রাঙ্ক হার্ন পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন এবং ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা – উভয় দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১০-১১ মৌসুম থেকে ১৯২৬-২৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯২১-২২ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন ও খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। ঐ বছর ৪৫ গড়ে ৫৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
১৯২২ সালে সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বব ক্যাটারল, সিরিল ফ্রাঁসোয়া, আইজাক বাইস ও উইলিয়াম ব্রানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৮ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, জানুয়ারি, ১৯২৩ সালে কেপটাউন টেস্টে অংশ নেন। তবে, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন।
১৯২৪ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করে রান-আউটে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯২৬-২৭ মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৩৮ রান তুলেন। পরবর্তীতে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটিই তাঁর সর্বশেষ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এক শতক সহযোগে ২৮.৩০ গড়ে ১৯৮১ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে ২৮.৬৪ গড়ে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন। পাশাপাশি ৩৮ ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
১৩ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে ট্রান্সভালের বারবারটন এলাকায় ৯০ বছর ২৩১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি যে শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকার বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন তা-ই নয়, বৈশ্বিকভাবে ইজে টাইগার স্মিথের পর দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
