২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যানের যৌথ গুণাবলী থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়েছেন। অপূর্ব কৌশল অবলম্বনে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। বয়সভিত্তিক খেলায় দ্রুত নিজের উত্থান ঘটান। ফলশ্রুতিতে, দ্রুততার সাথে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ঘটাতে তৎপর হন।
মোরাতুয়াভিত্তিক প্রিন্স অব ওয়েলস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিদ্যালয় ক্রিকেট পদ্ধতিতে দূর্দান্ত খেলেছেন। এরপর জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন। ২০১৩ সালে বর্ষসেরা বিদ্যালয় ক্রিকেটারের পুরস্কার লাভ করেন। এ পর্যায়ে প্রিন্স অব ওয়েলস কলেজ দলের পক্ষে খেলতেন। পরের বছর যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্যান্ডি তুস্কার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৫ সালের প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সূচনা ঘটান। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর ব্লুমফিল্ডে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় প্রতিপক্ষ ছিল রাগামা ক্রিকেট ক্লাব। প্রথম মৌসুমে ৩০.৬০ গড়ে মাঝামাঝিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে ৪৫৯ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও, তরুণদের নিয়ে গড়া টেস্ট দলে নিজেকে কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যেতে সচেষ্ট হন। হায়দ্রাবাদে মঈন-উদ-দৌলা তিনদিনের প্রতিযোগিতায় চমকপ্রদ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে জাতীয় দলে অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়।
২০১৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত খেলায় তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেকের পূর্বে মাত্র ষোলটি প্রথম-শ্রেণীর ইনিংস খেলেছিলেন। ১৩ ও ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের সুবাদে স্বাগতিকরা ৭২ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
এছাড়াও, নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকানোর পূর্বে মাত্র একটি প্রথম-শ্রেণীর শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১৬ সালে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১৬ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৮ ও ১৭৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শতকটি খেলার বাঁক ঘোরায় ও সিরিজ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঐ টেস্টে অন্য কোন ব্যাটসম্যানই ৫৫ রানের অধিক সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ইনিংসের মর্যাদা পায়। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৬ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
তারপর থেকে ওডিআই ইনিংসেও বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক ইনিংস খেলেছিলেন। নিজেকে টেস্টে শীর্ষ চার অবস্থানে স্থায়ীভাবে পাকাপোক্ত আসন গড়েন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৪ ও ১১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৩ রানে জয়ে পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০১৮ সালে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৬ জুন, ২০১৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১০২ রান সংগ্রহের পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শেন ডোরিচের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২৬ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের এগিয়ে যায়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৬ ও ৮৪* রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
গুরুতর সড়ক দূর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার একদিন পর ৬ জুলাই, ২০২০ তারিখে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
২০২৩-২৪ মৌসুমে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথমটিতে খেলেন। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, গ্লাভস হাতে নিয়ে ৫টি ক্যাচ নিয়ে দলের ৩৫৮ রানের বিশাল বিজয়ে অবদান রাখেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ২ রান সংগ্রহকালে টেস্টে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
২০২৪ সালে নিজ দেশে টিম সাউদি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১০৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কামিন্ডু মেন্ডিসের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৫৪ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। উসমান খাজা’র অসাধারণ দ্বি-শতরানের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৪২ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২৫ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮৪ রান সংগ্রহ করে রান-আউটে বিদেয় নেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
